পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, বুড়িগঙ্গা নদীর ৬০ শতাংশ পাড়ের শিল্পপতিরা দখল করে রেখেছেন এবং তাদের কারখানার বর্জ্য অনবরত নদীতে ঢুকছে। এমনকি হাজারীবাগ ট্যানারির সব বর্জ্যও বুড়িগঙ্গায় যাচ্ছে।
তারা বলছেন, এসব কারখানায় বর্জ্যশোধন যন্ত্র (ইটিপি) লাগালেই ময়লা আর নদীতে পড়তো না। সরকারের পক্ষ থেকে বার বার তাগিদ দেওয়া হলেও মালিকরা তা মানছেন না।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অবিলম্বে বুড়িগঙ্গা নদীর সকল দখলদার উচ্ছেদ ও সকল ট্যানারী অপসারণ’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারসহ ১৭টি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে অবিলম্বে নদী পাড়ের সব দখল উচ্ছেদ ও সব ট্যানারি অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বুড়িগঙ্গার স্থাপনা সরাতে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার ২৯ দলখদারকে নোটিস দিলেও তারা তা সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
দখলদারদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরে নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।
দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বুড়িগঙ্গা দূষণে ৩০ শতাংশ দায়ি বলে দাবি করেন তারা।
পরিবেশবাদীরা জানান, বুড়িগঙ্গার পানিতে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, মাঙ্গানিজ, লৌহ, তামা, দস্তা, আর্সেনিক, ব্রোমিন, সীসা, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, রোবেডিয়ামসহ প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান মিলে পানি দূষিত করছে।
প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন কমিটি, টাস্কফোর্স গঠন, সুপারিশ, উচ্ছেদ করেও সরকার বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে পারেনি। নতুন করে বুড়িঙ্গা বাঁচাতে ‘নদী কমিশন’ গঠন ও বুড়িগঙ্গা দখল মুক্ত করাসহ নয় দফা দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বাপা সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল মতিন, গ্রীন ভয়েস সমন্বয়ক আলমগীর কবির, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার পরিচালক শরীফ জামিল, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, সুন্দর জীবন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
[b]ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
জাতীয়
'বুড়িগঙ্গার ৬০ শতাংশ শিল্পপতিদের দখলে'
পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, বুড়িগঙ্গা নদীর ৬০ শতাংশ পাড়ের শিল্পপতিরা দখল করে রেখেছেন এবং তাদের কারখানার বর্জ্য অনবরত নদীতে ঢুকছে। এমনকি হাজারীবাগ ট্যানারির সব বর্জ্যও বুড়িগঙ্গায় যাচ্ছে।





