পানি কমার সাথে সাথে তীব্র স্রোতের কারণে ফের ভাঙতে শুরু করেছে পদ্মার পাড়। সেই সঙ্গে ফাটল দেখা দিয়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা ৩ নম্বর গ্রোয়েনে (আইবাঁধ)।
অভিযোগ উঠেছে, পাউবো কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ঠিকাদারদের নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলার কারণে সরকারি সোয়া কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে গেছে। ফলে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পদ্মা তীরবর্তী বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ দিন ধরে নতুন করে পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে রাজশাহী নগরীর পশ্চিমাঞ্চল বুলনপুর, জিয়ানগর, বসরী, নবগংগা, কেশবপুর ও সোনাইকান্দির অনেক এলাকা পদ্মার গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙ্গনে এরই মধ্যে বিলিন হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা শ্মশানঘাটটি।
নদীগর্ভে বিলিন গেছে ক্ষেত-খামার ও বাড়িঘর। ভাঙ্গনে পদ্মার দুইপাড়ের হাজার মানুষ নিঃস্ব হলেও টনক নড়েনি পাউবো কর্তৃপক্ষের। রাজশাহী পাউবো সব সময় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থেকেছে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে পদ্মাপাড়ের কয়েক হাজার মানুষকে।
রাজশাহীর পদ্মা তীরবর্তী বলনপুর ৩ নম্বর গ্রোয়েন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এবার অনেক মানুষের বাড়িঘর পদ্মায় চলে গেছে। ভাঙ্গন ধরেছে ৩ নম্বর আইবাঁধেও। জোরে-শোরেই ভাঙ্গছে পদ্মা তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ এলাকা।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রতিনিধি ও পাউবো কর্মকর্তারা শুধু ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ভাঙ্গন থেমে নেই। সবাই শুধু আসে আর যায়। কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না কেউ।’
রাজশাহীর পবা উপজেলরা হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে পাউবো কী ফেলে, কত ফেলে, কারা ফেলে তা আমাকে জানানো হয় না। পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য হলেও শুধু স্বাক্ষর করাই আমার কাজ।’
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ছিল ১৫ দশমিক ৬৬ মিটার। এ অঞ্চলে পদ্মার পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫০ মিটার।’
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, এরই মধ্যে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হওয়া এলাকা পরিদর্শন করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠানের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী শহর রক্ষা ৩ নম্বর গ্রোয়েনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখানে জিও ব্যাগগুলো কিছুটা নিচে নেমে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তবে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





