মসজিদ মুসলিম উম্মাহর দ্বীনি ও সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। যে ইমাম সাহেবদের ইমামতিতে সালাত আদায় হয় ঐ ইমামের নেতৃত্বেই সংশিষ্ট মসজিদ এরিয়ার সর্বস্তরের জনগণের সাথে নৈতিক সচেতনতা তৈরী করতে হবে। তাহলেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকতা, সুদ, ঘুষ ও সকল ধরণের সামাজিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব। এ জন্য এলাকার সকল মসজিদকে দাওয়াহ মারকায তৈরীর মাধ্যমে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সমন্বিত উদ্যেগ জরুরী।
আজ বাংলাদেশ মসজিদ মিশন কেন্দ্রীয় ইমাম-খতীব সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি শায়খুল হাদীস অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানীর পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ।
বিশেষ অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন– রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। আন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আবুল কালাম আযাদলণ্ডন প্রবাসী, বিশিষ্টবিদ ড. হাসান মঈনুদ্দীন, বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন মাওলানা লুৎফর রহমান লক্ষীপুর, সিলেট বিভাগীয় সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুস সালাম মাদানী, রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দীন, কুমিল্লা অঞ্চল সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ড. হেলাল উদ্দীন মোঃ নোমান, ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, ঢাকা উত্তর সভাপতি ড. হাবিবুর রহমান , খুলনা অঞ্চলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, বরিশাল বিভাগীয় সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হক, যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চল সভাপতি মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর অঞ্চলের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, মসজিদ সমূহকে হেদায়াতের মারকায করে গড়ে তুলতে ইমাম খতীবদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দাওয়াহ ইলাল্লাহ এর দ্বীনের দাওয়াত ইসলামের অপরিহার্য বিধান মর্মে তিনি কুরআন হাদীস থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দাওয়াহ কর্মে ইমাম খতীবদেরকে নিরলস কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের পক্ষ থেকে দ্বায়ী ইলাল্লাহর পরিপূর্ণ হক আদায় করতে হবে। যে বিষয়ে খুৎবা দিবেন সেই বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করবেন। আমল করে মুসল্লিদের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। কারণ ইমামদের দিকে সমাজের লোকেরা তাকিয়ে থাকে এবং ইমামকে অনুসরণ করে। ইমামদেরকে ধৈর্য্য সহকারে মানুষের কথা শুনতে হবে। কুরআন সুন্নাহর আলোকে সমাধান দিতে হবে।
বিশেষ অথিতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, উলামায়ে কেরাম ও ইমামদের কাছে আমাদের চাওয়া বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কাজ গ্রামে গ্রামে বিস্তৃত করা দরকার। মসজিদ মিশনের পরিকল্পনার আলোকে কাজ করতে হবে। সবকাজ বন্ধ হলেও মসজিদ মিশনের কাজ বন্ধ হওয়ার না। মসজিদ তো কারো নয়। আমাদের মুসল্লিদের তেলায়াত শুদ্ধ নয়। তাই মসজিদের ইমাম সাহেবরা মসজিদে সহিহ কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন। মানুষ যখন নামাজি হয়ে যায় তখন সে খারাপ থেকে দূরে থাকে। ভাষার ব্যাপারে ইমাম খতীবদের পরিশুদ্ধ হতে হবে।
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, আল্লাহর ঘর মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য মসজিদ মিশন কাজ করে যাচ্ছে। যতদিন দুনিয়ায় মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থা ছিল ততদিনই তাকওয়াপূর্ণ সমাজ ছিল। দুটি নেতৃত্ব একটি মসজিদ কেন্দ্রিক অন্যটি দুনিয়াবী নেতৃত্ব। ইমামগণ শুধু মসজিদ কেন্দ্রীক নেতৃত্ব দিচ্ছে দুনিয়াবী নেতৃত্ব দিচ্ছে না। দুইটা নেতৃত্ব আলাদা হয়েছে। যারা মসজিদরে নেতৃত্ব দিবে তারাই দুনিয়াব নেতৃত্ব দিবে। মসজিদের নেতৃত্ব তারাই দিবে যারা তাকওয়াবান।
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা যে ময়দানে কাজ করি সে জমিনটা সকলের। আমরা ইমাম খতীব আমাদের তিনটি বৈশিষ্ট্য ১. কুরআন সহিহ শুদ্ধ ২. আমাদের চলা ফেরা কথা বার্তা অমায়িক হতে হবে। ৩. আমরা দ্বায়ী হিসেবে কাজ করে যাবো।
ড. আবুল কালাম আযাদ (লন্ডন) বলেন, ইমামদেরকে আগে মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ নিতে হবে। এরপর ইমামতি করলে সঠিকভাবে ইমামের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
সম্মেলনে প্রস্তাবনা পেশ করেন মসজিদ মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী।
১. সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকতা, সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া সহ সকল ধরণের অনৈতিক ও গর্হিত কাজ পতিহত করতে ইমাম সাহেবগণ দায়িত্ব পালন করতে অঙ্গিকারবদ্ধ। তাই অপরাধীকে কোন ধরণের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও দলীয় প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য এ সম্মেলন সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানায়।
২. নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারী নির্যাতন বন্ধে সরকার, প্রশাসন, দলমত নির্বিশেষে সকলকেই আন্তরিক উদ্যেগ নিতে হবে।
৩. দীর্ঘদিন ধরে ইমাম মুয়াজ্জিনগণ অবহেলিত ও বঞ্চিত। তাই মসজিদ মিশনের পক্ষ থেকে ইমাম মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল চালুর জন্য বার বারই দাবী জানানো হয়েছে। আজকের এই সম্মেলন দাবী করে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ইনাফ পূর্ণ সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল প্রণয়ন করতে হবে।
৪. বৈশ্বিক মহামারী ‘করোনা’ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাতের পাশাপাশি পাপমুক্ত জীবনে অভ্যস্ত হওয়ার সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছে।
জাতীয় ইমাম সম্মেলন ইমাম ট্রেনিং সারাদেশের সকল জেলা কমিটি ও থানা কমিটির প্রায় দুই সহস্রাধিক ইমাম খতীব অনলাইনে যুক্ত হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমআর





