সাতক্ষীরায় জামায়াত ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে ফেঁসে গেছেন এক নারী।
মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ওই নারীর বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার দায়ের মামলায় বিচারক তাকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের জেলের আদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ আদেশ দেন। সাজা পাওয়া নারীর নাম মোছা. আননু ওরফে নাজমা আক্তার। তিনি পুরাতন সাতক্ষীরার আব্দুল গফুরের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের লাইব্রেরিয়ান পুরাতন সাতক্ষীরার জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে কামরুল হুজুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে আনু ওরফে নাজমা আক্তার ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার পরদিন পুলিশ কামরুলকে গ্রেফতার করে। ২৬ দিন জেল হাজতে থাকার পর জজকোর্ট থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জেলে যাওয়ার অভিযোগে কামরুল ইসলামকে কলেজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক মনোয়ারা খাতুন আসামি কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১২ সালের ১৯ মার্চ বাদীর নারাজির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একইভাবে ওই বছরের ১৮ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বাদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ১৭ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন।
মামলাটি আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর কামরুল ইসলাম ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মামলার বাদী ও চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং নথি পর্যালোচনা শেষে বিচারক নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে আজ এ রায় দিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু ও নাদিরা পারভিন।
প্রসঙ্গত, স্ত্রী থাকার পরও সিটি কলেজের লাইব্রেরিয়ান বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি থানায় জিডি করেছিলেন। সূত্র: পরিবর্তন
জেড





