ঈদুল আজহায় এবার রাজধানীতে দুই লক্ষাধিক পশু জবাই হবে। সিটি করপোরেশনের ধারণা, এর ফলে বর্জ্য জমবে প্রায় ৮ হাজার টন। এসব দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে না পারলে রাজধানীতে টেকা দায় হয়ে যাবে। তাই পশুর বর্জ্য অপসারণে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উত্তর সিটি করপোরেশনও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রি পলিব্যাগ সরবরাহ, কোরবানির ৩০ ঘণ্টার মধ্যে নগরীকে বর্জ্যমুক্ত করা অন্যতম। পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত থাকবে ৬ হাজার ৮৯০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী।

সোমবার গুলশানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরভবনের কার্যালয়ে এ কথা জানান ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকার্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারো ঈদুল আজহায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণের জন্য ভ্যান সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জীবাণুমুক্ত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ভ্যানগাড়ি করে স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটানো হবে। এজন্য করপোরেশনের নিজস্ব ৬ হাজার ৫৫০ কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩৪০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত থাকবে। ৫৭টি ট্রাক এবং ঈদের আগের রাত থেকে আরো ১০টি ট্রাক নিয়োজিত করা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঈদের আমরা বর্জ্যের পরিমাণ অনুমান করেছি প্রায় ৮ হাজার টন। অতিরিক্ত এসব বর্জ্য সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নগরবাসী যাতে সুন্দরভাবে বর্জ্যগুলো করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে রাখতে পারে সেজন্য ফ্রি পলিব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যেমে নগরবাসী জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নির্ধারিত ভ্যানে রাখবে।’

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরীকে কোরবানি বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে এই কর্মকর্তা। এ সময়কে ৩০ ঘণ্টার মধ্যে নামিয়ে আনার সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান। তিনি জানান, এজন্য ২৪টি ডাম্পার, ৮টি পে-লোডার, ৩টি টায়ার ডোজার, ৭টি পানির গাড়ি (জেট স্প্রেসহ), ২টি প্রাইম মুভার, ২টি ট্রেইলর, ৩টি স্কেভেটর ও ৪টি চেইন ডোজার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া, পশু জবাইয়ের স্থান পানি দিয়ে ধোয়ার জন্য ডিএনসিসির পানির গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নৌবাহিনী থেকে ৭টি পানিবাহী গাড়ি ঈদের দিন সকাল থেকে নিয়োজিত থাকবে। কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়মকানুনের বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে লিফলেট/স্টিকার বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পশুর হাটে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।

বর্জ্য অপসারণে সাহায্য পেতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যার টেলিফোন নম্বর ৯৮৫৮০০৬, ৯০০৪৭৩৪ এবং ৯৮৬১৩৯৩। যে কোনো সমস্যার জন্য এ নম্বরে ফোন করা যাবে।

এছাড়া করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি অঞ্চলের জনসাধারণকে যে কোনো সহযোগিতা পেতে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।
অঞ্চল-১ উত্তরা, কুড়িল, খিলক্ষেত, টানপাড়া, জোয়ার সাহারা, নিকুঞ্জ, আজমপুর ও আব্দুল্লাহপুরের জন্য ০১৭১৭১০২০২৫, অঞ্চল-২ মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকা, পল্লবী, মিরপুর ১,২০,১২ ও ১৪ এলাকার জন্য ০১৭১১০৫৭৭৪৭৪। অঞ্চল-৩ গুলশান, বনানী, বাড্ডা, নর্দা, নাখালপাড়া, মগবাজার, রামপুরা ও বনশ্রীর জন্য ০১৫৫২৩০৫৬৪৬। অঞ্চল- ৪ শেওড়াপাড়া, রোকেয়া স্বরণী, কল্যাণপুর ও দারুস সালামের জন্য ০১৭১২-৫৮৪০৮৬। অঞ্চল-৫ কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, মনিপুরী, তেজকুনী বাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুর এলাকার জন্য ০১৭১১৩১৩২৮৯।

জেআই,