বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, বাংলাদেশ যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে তাতে দেশটির অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আমি বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
নিউইয়র্ক সফররত রাষ্ট্রদূত মজিনাকে প্রদত্ত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ১৬ মার্চ রোববার দুপুরে নিউইয়র্কের উডসাইডে গুলশান ট্যারেসে ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর জাষ্টিস ইনক এর চেয়ারপার্সন অষ্টিন ম্যানগাম এবং আমেরিকান বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইনক এর চেয়ারপার্সন এটর্নী মঈন চৌধুরীর এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম, জিম ম্যাকলেন, কষ্টা কন্টারেইডস, বিচারপতি ক্যারেলন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ এর সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা: মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান।
ডব্লিউ মজিনা বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দুর্যোগের দেশ হিসেবে জেনে এসেছি। কিন্তু এখন আগের বাংলাদেশ নেই। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ যে অচিরেই একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে তাই নয়, বাংলাদেশই হবে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার এবং দেশটির জনগণই এটি সম্ভব করে তুলবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা তৈরী পোশাক রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বাংলাদেশী তৈরী পোশাকের ব্র্যান্ড সমগ্র বিশ্বে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে পরিণত হবে। বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ১৬টি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়েছে, যা পূরণ করতে বাংলাদেশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তৈরী পোশাক কারখানাগুলোর পরিদর্শন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাও এ ব্যাপারে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মজিনা আরো বলেন, দারিদ্র দূরীকরণে, জনগণের জীবন মানের উন্নয়নে, জীববৈচিত্র রক্ষায়, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থেকে বাংলাদেশকে একটি টেকসই অবস্থায় উপনীত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ৫৪৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে সহায়তা করেছি এবং আরো ১৩০টি শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি শেল্টারে ১৮শত লোক সাইক্লোনের পূর্বাভাস পাওয়ার পর আশ্রয় নিতে পারবে।
ডা: মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান বাংলাদেশের বর্তমান সরকার পরিচালিত মানবাধিকার লংঘন, বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করা, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের কঠোর সমালোচনা করে এসব দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে বাধ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে সীমিত অবরোধ আরোপ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত মজিনা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বুঝাতে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এটর্নী মঈন চৌধুরী প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে এবং দেশে জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসম্যানসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে একত্রে ভূমিকা রাখার উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সম্ভাব্য সকল উপায়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যে অবদান রাখছেন তার প্রশংসা করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেবিবিএ‘র সাবেক সভাপতি সাইদ রহমান মান্নান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, আবুল কাশেম চৌধুরী, ডা: এহসান হক,আসিফ চৌধুরী, হাটবাজার ও গুলশান ট্যারেসের সত্ত্বাধিকারী মহসিন ননী প্রমুখ।
আলোচনা পর্বের পর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পারফর্মিং আর্টস (বিপা)-এর শিল্পীরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করে। মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
[b]নিউইয়র্ক / পিএম/ ১৯মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি
[/b]
জাতীয়
বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ নেই- ড্যান মজিনা
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, বাংলাদেশ যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে তাতে দেশটির অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আমি বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।





