একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আপিলের রায়ে আমৃত্যু কারাদন্ড ঘোষণার পর ৪৮ ঘন্টার হরতাল ডেকেছে দলটি। বৃহস্পতিবার ও রোববার দু'দিনের হরতালের আহ্বান করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির প্রচার বিভাগের সহকারী মো: ইব্রাহীম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান বুধবার বেলা সোয়া ১২টায় এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।
হরতালে রাজধানীসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নজরদারীর পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা।
এদিকে, হরতালের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জামায়াতের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার পর এর প্রতিবাদ জামায়াত যে হরতাল দিয়েছে তাতে কোনো নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব নৈরাজ্য কঠোর ভাবে দমন করবে।
তিনি বলেন, হরতাল মানে নাশকতামূলক কর্মসূচি। তাই মানুষ এটা সমর্থন করতে পারে না। ইতোপূর্বেও জামায়াত হরতাল দিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। আদালতে রায়ের প্রতি সবার সম্মান দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনো ধরণের নাশকতা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
জামায়াত প্রভাবিত এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পুলিশ র্যাবের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে সাঈদীর রায় ঘিরে ব্যাপক প্রাণহানি ও নৈরাজ্যের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।
এব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সাঈদীর রায় ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবণতি ঘটতে পারে এমন কোনো কর্মর্সূচী থাকলে যে ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার সেই ধরণের ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, কেউ যদি আদালতের রায়কে অমান্য করে কোনো ধরণের ফৌজদারি অপরাধ সংঘঠিত করে অথবা করার উদ্যোগ নেয় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করো হবে।
এব্যাপারে বিজিবির সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। তবে রাজধানীতে বিজিবি সদস্য মোতায়েনের এখনো কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।”
তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতির আলোকে কোনো জেলা প্রশাসন বিজিবি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে আবেদন জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে র্যাবের সব ব্যাটালিয়নকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটতে পারে এমন সব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরণের ছাড় দেয়া হবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি)এর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রায়ের ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় নৈরাজ্য হতে পারে তা তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ৪৯ থানার ওসিকে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোচিং সেন্টার, আবাসিক হোটেল, মেস, কমিউনিটি সেন্টারে কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। শিবির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন মেস এলাকায় টহল বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হতে পারে, তাদের আটকের ব্যাপারে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি মিডিয়া) উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রাজধানীতে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি বলেন, ঢাকার চারটি প্রবেশমুখে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হবে। বঙ্গভবন, গণভবন, কূটনৈতিক এলাকা, বিচারকদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নেওয়া হবে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। কেউ নাশকতা চালানোর চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ঢাকা, জেইউ, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এএইচ





