শোক আর চোখের জলে মীরসরাই ট্র্যাজেডির ৩য় বার্ষিকীতে নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরণ করলো স্বজন, সহপাঠী এবং আবুতোরাবের সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ “আবেগ”এ পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, স্মরণ সভা এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো মীরসরাই ট্র্যাজেডির ৩য় বার্ষিকী।
এর আগে সকালে স্মৃতিস্তম্ভ ফুল দিয়ে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির পক্ষে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, মীরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন শাহীন কাকলী, চেয়ারম্যান কবির নিজামী, শাহীনুল কাদের চৌধুরী, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ছাদেক প্রমূখ।
স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ-এ শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতদের স্বজনরা স্মৃতিস্তম্ভে নিজের সন্তানের ছবির দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সেই সড়ক দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, দুর্ঘটনার তিন বছর পার হয়ে গেলেও আজো একদিনের জন্যও ভুলতে পারিনি সে দিনের দুঃসহ স্মৃতির কথা। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, দুর্ঘটনার পর আমাদের স্কুল সরকারি করণের ঘোষণা দিয়ে গেলেও আজো স্কুল সরকারি করা হয়নি।
নিহত স্কুল শিক্ষার্থী আশরাফ উদ্দিনের বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, আমার ছেলের শোক আজো ভুলতে পারিনি। স্মৃতিস্তম্ভ আবেগের কাছাকাছি এলেই প্রিয় সন্তানের ছবি দেখে শোকে কাতর হয়ে যাই প্রতিনিয়ত। জুয়েল শীলের মা নিলীমা বলেন, প্রিয় সন্তান হারানোর যন্ত্রণা আজো বয়ে বেড়াচ্ছি।
আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক বলেন, মীরসরাই ট্র্যাজেডিতে যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। তিনি প্রশাসনের কাছে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি করণের জন্য পুনরায় দাবি জানান ।
২০১১ সালের ১১ জুলাই সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনার খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় মীরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের দক্ষিণ সৈদালী এলাকায় ৭০-৮০ কিশোর বহনকারী মিনিট্রাকটি পাশের ডোবায় উল্টে যায়। যেখানে একসাথে ছাত্রসহ ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। সেই দিন হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক অভিভাবক মারা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জুয়ের শীলের মৃত্যু পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু গুণতে হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ জনই শিক্ষার্থী।
ঢাকা, ১১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





