বেপরোয় গাড়ি চালানোর কারণেই নাটোরের বড়াইগ্রামের ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকালে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র‌্যালির মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

র‌্যালির নেতৃত্ব দেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াছ কাঞ্চন। জাতীয় বধির সংস্থা, দ্য ক্যাম্পাস মিরর, প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডসহ বিভিন্ন সংগঠন র‌্যালিতে অংশ নেয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার কিছুই নেই, সড়ক দুর্ঘটনা আজ আমাদের জাতীয় দুর্ভাবনা। দু’দিন আগে নাটোরের দুর্ঘটনা আমাদের জাতীয় অনুভূতিকে নাড়া দিয়েছে। আমাকেও তাড়া দিয়েছে। একই পরিবারের ৬ জনসহ একটি গ্রামের ১৬টি লাশ আমি দেখেছি। ওই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি, খেতে পারিনি।’

কিন্তু সে ঘটনায় কোনো আন্দোলন, মানববন্ধন না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটি বার্তা। সেদিন দুর্ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি সেখানে গিয়ে হাজির হই। অনেকে আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যেতে বারণ করেছেন। অনেক সময় গুজবেও গাড়ি ভাঙচুর-বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হয়।’

নাটোরের দুর্ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি রাস্তা খুব ভালো। অভার টেকিং বা চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভাবে যিনি গাড়ি চালান তার জীবনও নিরাপদ নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা আগামীকালের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১৪৪টি ব্ল্যাক স্পট রয়েছে। মহাসড়কের ৮৩টি ব্লাক স্পটের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোর সমাধার করা হবে।’

জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেতু ভবনের সামনে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই। ফেসবুকে অনেকেই আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে সহমতও পোষণ করেছেন।’

পরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে র‌্যালিতে অংশ নেন মন্ত্রী। র‌্যালিটি জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

জেআই