অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘জাতির জনকের ইচ্ছা অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডকে আদর্শ বিবেচনা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
জাতীয় যুব দিবস ২০১৪ উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বলেছিলেন, সুইজারল্যান্ডই হবে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার আদর্শ।’
তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা ছিল দেশের প্রতিটি সক্ষম মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা। এই বিষয়ে কোনো কোনো উন্নত দেশ বড়াইও করতো। কিন্তু সুইজারল্যান্ড এই ধারণার বিপরীতে কোনো যুদ্ধ বিগ্রহে জড়িত না হয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার নীতিতে পরিচালিত হয়। এই ধারনায় পরিচালিত হওয়ার ফলে সুইজারল্যান্ড ঈর্ষনীয় অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়।’
এ কারণে বঙ্গবন্ধু সুইজারল্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওই ঘোষণা দেন এবং বর্তমান সরকার ওই ধারণায় পরিচালিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ট্রানজিটকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ লক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের সকল মানুষকে শিক্ষত করার লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করছে। সবাই বলতে শিশু থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষের কেউ দেশে অশিক্ষিত থাকবে না।’
অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকরা ৬ ভাগে নেমে এসেছে। এখন দেশে মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ শিশু বাদ পড়ার তালিকায় আছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘লেখাপড়া না শিখলে মানবিক সম্ভাবনা বিকোশিত হবে না। মানুষ পশু হয়ে থাকবে। শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য দেশের মানুষের মধ্যে বুদ্ধির বিকাশ হওয়া চাই। ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে সবাইকে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা পর্যায় থেকে এই সার্ভিস শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ন্যাশনাল সার্ভিস বাস্তবায়ন হবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার রহস্য যুব সমাজের হাতে লুকায়িত আছে। ১৮ বছরে যৌবন আসলেও ঠিক কত বছরে যৌবন শেষ হয় তা বলা মুস্কিল। যৌবনের সবচেয়ে বড়গুণ হচ্ছে সাহস।’
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যুব দিবসের এই আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান রাসেল। সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম। সফল যুবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যাত্রাবাড়ির উত্তর গোলাপবাগের হাসিনা মুক্তা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব নুর মোহাম্মদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় যুব দিবস ২০১৪ উপলক্ষে ১৫ জন শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকের হাতে জাতীয় যুব পদক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা।
সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মোট চালিকা শক্তির এক তৃতীয়াংশ যুবক। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কর্মক্ষম এক তৃতীয়াংশ যুবশক্তি নেই। দেশের এই যুব সমাজকে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছে যাবে।’
উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন, ‘যুবসমাজকে মানব সম্পদে পরিণত করে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।’
এএইচ





