বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে কারওয়ান বাজার এলাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রস্তাবিত ২৫ তলা ‘টুইন টাওয়ার’ এর পাইলিংয়ের গর্তে ধসে পড়ে পাশের সড়কের একটি অংশ। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় পাশের সুন্দরবন হোটেল।
দু’দফা ধসের ঘটনায় সুন্দরবন হোটেলের পাশের ওই রাস্তাটি ছাড়াও কয়েকটি অস্থায়ী দোকানও পড়ে যায় গর্তটিতে। আর এ ঘটনায় সুন্দরবন হোটেল ও আশপাশের এলাকা ক্ষতি থেকে রক্ষায় সার্বিক সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী।
নিজেকে নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ক্রয় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শহীদুল হক নামের এক ব্যক্তি বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ করেই রাস্তার কিছু অংশ ধসে পাইলিংয়ের গর্তে গিয়ে পড়ে। ধসে পড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
পাইলিং করার সময় যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শহীদুল বলেন, যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাহলে ভেঙে পড়ল কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারব না, আমাদের ইঞ্জিনিয়ার আছেন, তারা বলতে পারেন।’

ওই এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খাম্বা, গাছপালা, বেশ কিছু ভ্যানরিকশা ও হকারদের দোকান ওই গর্তে পড়ে আছে।
এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে নুর তাপসও এসেছিলেন।
এঘটনায় রাজউকের অবহেলাকে দায়ী করেছেন ঢাকা সিটি দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে তিনি রাজউকের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে না দেখে তাদের উপর প্রচন্ড ক্ষোভও প্রকাশ করেন। আর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সব কিছু মনিটরিং করছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক।
ঘটনার সঙ্গে জড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে নুর তাপস। এনবিএল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ এবং রাজউকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চান।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ জানতে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রাজউক, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), পুলিশ, র্যা ব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার পর সুন্দরবন হোটেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অবস্থানরত সকল বোর্ডারকে হোটেল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ইতোমধ্যে সকল বোর্ডার হোটেল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক নুরুল হক জানান, সুন্দরবন হোটেলের পাশের রাস্তা নির্মানাধীণ ওই ভবনের গর্তে ধসে গেছে। এতে হোটেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলের সকল বোর্ডারকে সরে যেতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এমকে/ইআর





