লেবাননে কর্মরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা চরম বিপাকে পড়েছেন তাদের সন্তানদের নিয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৬ দেশের অভিবাসীদের সন্তানের কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। লেবাননে কর্মরত ৯টি এনজিওর পক্ষ থেকে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার, ২ সেপ্টম্বর ২০১৪) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অপর দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-শ্রীলংকা, ফিলিপাইনস, ঘানা, দক্ষিণ সুদান এবং মাদাগাসকার।
বিদেশীদের প্রবেশ এবং বসবাস বিষয়ক লেবাননের নিরাপত্তা সংস্থা 'জেনারেল সিকিউরিটি' সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তে বেশ কিছু নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করে।
এসব শ্রমিকদের সবারই লেবাননে জন্ম নেয়া সন্তান রয়েছে। এতে করে এসব সন্তানদের পারিবারিক জীবনযাপন সংক্রান্ত অধিকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠন।
বিভিন্ন মানবাধিকার গ্রুপের কাছে অনেক অভিবাসী অভিযোগ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননে বসবাস করা সত্ত্বেও যখনই তারা তাদের সন্তান ও নিজেদের জন্য অভিবাসনের মেয়াদ বাড়াতে 'জেনারেল সিকিউরিটি'র কাছে আবেদন করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
অভিবাসীদের অনেকে এমনও অভিযোগ করেন, লেবাননে তাদেরকে সন্তান নিতে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। অনেক সময়ই স্বল্প নোটিসে দেশ ত্যাগের নির্দেশ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগ করতেও বলা হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর নাদিম আউরি বলেন, জেনারেল সিকিউরিটির নতুন নির্দেশনার আলোকে কিছু পরিবারের আবাসন মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বার বার আটকিয়ে দেয়া হচ্ছে।
একইসাথে অপর কিছু পরিবারের অভিবাসন মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলেও জানান নাদিম। এর পেছনে একটাই কারণ, আর তা হলো-এসব পরিবারে লেবাননে থাকাকালীন সময়ে সন্তান জন্ম নিয়েছে।
নাদিম আউরি আরও বলেন, লেবানন কর্তৃপক্ষ তাদের এই নতুন নীতিমালার ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেননি। তাদের উচিত অবিলম্বে এই নীতিমালা পরিহার করা, কারণ এটা পারিবারিক জীবন সংক্রান্ত অধিকারকে লঙ্ঘন করছে।
আগে থেকেই লেবাননের আবাসন সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী নিচু আয়ের অভিবাসী শ্রমিকরা বিশেষ করে গৃহস্থলির কাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা কিছু ক্যাটাগরিতে তাদের সন্তান কিংবা স্বামী বা স্ত্রীকে নিয়ে আসার অনুমোদন দেয়া হয় না।
কিন্তু তা সত্ত্বেও অতীতে লেবাননে বসবাসকারী অভিবাসীদের সেখানে জন্ম নেয়া তাদের সন্তানদের জন্য চারবছর বয়স পর্যন্ত আভিবাসন সুবিধা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পুনরায় আবাসন অনুমতি চেয়ে আবেদন করার বিধান ছিল।
কেন হঠাৎ করে নতুন এই কড়াকড়ি তা নিয়ে খোলাসা করে কিছু না বললেও নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের লেবাননে জন্ম নেয়া সন্তানদের জন্য একটি নতুন নির্দেশনা জারির বিষয়টি জেনারেল সিকিউরিটি সূত্র বেসরকারী গ্রুপগুলোকে নিশ্চিত করেছে।
তবে এনজিওদের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও অদ্যাবদী এই নির্দেশনার কোন লিখিত কপি লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি প্রদান করেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিমালা এ বছরের জানুয়ারি মাসেই গৃহিত হয়েছে। তবে, মে মাসের আগ পর্যন্ত এর জোরালো প্রয়োগ দেখা যায়নি।
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





