জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এলজিইডির প্রায় দুই কোটি টাকার কাজে টেন্ডারবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদর বিরুদ্ধে তিনি অন্যান্য ঠিকাদারদের বের করে দিয়ে নিজস্ব লোকদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন।

২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতায় সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে ওই উপজেলার তিন ইউনিয়নে বিভিন্ন খালের উপর সাতটি ব্রিজ নির্মানের জন্য ১ কোটি ৯২ লক্ষ ৭০ হাজার ৫শ ৮৮ টাকা ব্যয় ধরে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এ সব কাজের দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ ছিলো ৫ এপ্রিল এবং দরপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ছিলো ৬ এপ্রিল। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ৫০২টি দরপত্র ক্রয় করে জমা দেয় ঠিকাদাররা। এরপর একাধিকবার বিভিন্ন কারন দেখিয়ে দরপত্র লটারির তারিখ পেছানোর পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দরপত্র লটারি করার তারিখ নির্ধারন করা হয়।

যথাসময়ে ঠিকাদাররা সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লোরা বিককিস জাহানের কক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুণ অর রশিদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েজন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে উপস্থিত সকল ঠিকাদরদের মিটিং করার কথা বলে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পরক্ষনে দরপত্র আহ্বানকারী কর্তৃপক্ষ লটারি হয়ে গেছে জানিয়ে সীমান্ত ট্রেডার্সের নামে ২টি, সাহা এন্টারপ্রাইজ, শাকিল এন্টারপ্রাইজ, লোকনাথ এন্টারপ্রাইজ, এস.আর এন্টারপ্রাইজ ও নাহীন এন্টারপ্রাইজের নামে ১টি করে দরপত্র বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষনা করা হয়। এতে উপস্থিত সকল ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লোরা বিলকিস জাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। সকল নিয়মনীতি মেনেই ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে দরপত্র লটারি করা হয়েছে এবং নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান।

এমবি