রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ প্রকল্পের প্রায় ২৮ কোটি টাকার কাজের দরপত্র নিয়ে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এ অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে মানববন্ধনে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
মানববন্ধন চলকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভুক্তভোগী ঠিকাদার তোজাম্মেল হোসেন সরকার তাজেল বলেন, এক মাস আগে মহানগরীর ড্রেনেজ প্রকল্পের প্রায় ২৮ কোটি টাকার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ১টায় এই দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও চারটি দরপত্র জমা দেওয়া হয়।
মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব এই দরপত্রগুলো ব্যবসায়ীদের হয়ে জমা দেন। কয়েকজন ঠিকাদার এর বিরোধিতা করে দরপত্রগুলো বাতিল করার দাবি জানান। মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী পিয়নকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দরপত্র ফেলেছেন। তারা পিয়নের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন।
১১ নভেম্বর মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লবের ফেলা চারটি দরপত্র নিয়ে সিটি ভবনে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। বাক্স খোলার পরে জানা যায়, চারটি ছাড়াও মোট ৫৪টি দরপত্র জমা পড়েছে। এসময় ঠিকাদারদের তোপের মুখে প্রকৌশলীরা ওই চারটি দরপত্র আলাদা করে একজন পিয়নকে সেগুলো সরিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। পিয়ন তখন দরপত্রগুলো আলাদা করে সরিয়ে রাখেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী জানান, শুধু তাই নয়, ওই দিনই ঠিকাদারদের সম্মুখে দরপত্র খোলা হয়। সবার সামনে কৌশলে মোট অঙ্ক প্রকাশ করেছে। পূর্ণাঙ্গ দরপত্রের বিস্তারিত জানানো হয়নি। দরপত্রগুলোর অনেকটিতে কাটাকাটি ও ওভার রাইটিং এর বিষয়টিও লক্ষ্য করা গেছে। প্যাকেজ টেন্ডারগুলোতে রাসিক মেয়র যোগসাজশ করে দরপত্র কাটাকাটি করে সর্বনিম্ন মূল্য নিজের পছন্দের ঠিকাদারের হাত দিয়ে তৈরি করে পরে জমা দিয়ে কাজগুলো পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ঠিকাদাররা স্থানীর সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনে যাননি। ওইদিন কী হয়েছে তা তিনি জানেন না।
জেআই





