পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩০টি সেতু ১০ বছর ধরে বিধ্বস্ত ও জরাজীর্ণ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী সহ এলাকাবাসী।
কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কোনভাবে সংস্কার করে পারাপার হলেও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না অধিক লোকের যাতায়াতের চাপ থাকার কারণে।
সিডর সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ উপজেলার অধিকাংশ সেতুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু কিছু সেতু কয়েক বছর ধরে কোন রকম মেরামত না করায় পুরোপুরিভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ইন্দুরকানী ও মোরেলগঞ্জ দুই উপজেলার সীমান্ত সেতু দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার পথচারিরা আসা যাওয়া করে । বুধবার সম্পূর্ন বিধস্ত হওয়ায় নৌকায় ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন পথচারিরা।
এর প্রায় ১ বছর আগে পাড়ের হাট আয়রণ ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যা এখনো পর্যন্ত ঠিক করা হয় নি।
ইন্দুরকানী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে পাড়েরহাট, পত্তাশি ও বালিপাড়া ইউনিয়নের সেউতিবাড়িয়া, চাড়াখালি, ভবানিপুর, রামচন্ডিপুর, চন্ডিপুর, চিংড়াখালি, কালাইয়া, লাহুরীসহ ২৭ টি গ্রামের সাধারণ এলাকাবাসী।
সিডর পরবর্তী ১০ বছর পার হলেও উপজেলার সেতু গুলো তেমন কোন প্রকার সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এলাকাবাসী বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন।
ইন্দুরকানী বাজার সংলগ্ন চাড়াখালী খালের সেতু, চন্ডিপুর বলেশপুরর খালের সেতু, কালাইয়া খালের উপরে কালাইয়া সেতু, দক্ষিণ ইন্দুরকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সেতু, বালিপাড়া সাঈদখালী মোল্লাবাড়ি খালের সেতু, দক্ষিণ ইন্দুরকানী সেতু, লাহুরী বাজার সংলগ্ন খালের সেতু, উত্তর লাহুরী খালের সেতু, দক্ষিণ ইন্দুরকানী মাঝির ডরের সেতু, ইন্দুরকানী ভারানী খালের সেতু, পশ্চিম বালিপাড়া পথেরহাট খালের সেতু,বালিপাড়া তালুকদার বাজার সিমান্ত পোলসহ এইরকম প্রায় ৩০টি সেতু কয়েক বছর ধরে নির্মাণ বা সংস্কার না হওয়ায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সর্বসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর দাবী এ সেতুগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই । পিরোজপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রফিকুল হাসান জানান, ইন্দুরকানীতে আমাদের বেশ কিছু ব্রিজ যেগুলো বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে যেগুরো পুনরায় মেরামত করে ব্যবহার করা সম্ভব না সেগুলোর উপাত্ত সংগ্রহ করে আমরা এলজিইডি মন্ত্রনালয়ের কাছে পাঠিয়েছি। প্রকল্পভূক্ত হলে অতি শীঘ্রই আমরা কাজ শুরু করব।
কেফায়েত/জেড





