উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনে জমে উঠেছে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। প্রথম দিনের তুলনায় বিকেলে মেলায় জনসমাগম ছিল চোখেপড়ার মত। যত সময় যাচ্ছে ততোই ভিড় বাড়ছে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের।

বিশেষ করে তরুন-তরুনী ও শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল বেশি। মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ডিজিটাল সেবাসমুহ দেখছেন ও সেবা সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নিচ্ছেন তারা।

মেলায় আসা কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেই তিনি মেলায় এসেছেন। বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সন্ধান পেয়েছি যা আগে কখনো জানতাম না।

এই মেলায় আসলে মানুষ ডিজিটাল সম্পর্কে ধারণা পবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবে বলে মনে করেন তিনি। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গত বুধবার জেলা কালেক্টরেট চত্বরে জেলা তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার শেষ হবে তিনদিনব্যাপী এই মেলা।

বৃহস্পতিবার ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু নতুন নতুন ডিজিটাল সেবাসমুহ সম্পর্কে জানা ও গ্রহন করা।

মেলায় দেওয়া ডিজিটাল সেবাসমুহের মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে সেবাদানকারী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সরকারী-বেসরকারী ৮১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

তাদের সেবা সমুহের প্রতি সাধারণ মানুষকে আর্কষিত করার জন্য ফ্রি সেবা প্রদান করে এবং প্রত্যেকটি ডিজিটাল সেবা দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের আর্কষিত করার জন্য রয়েছে ডিজিটাল সেন্টার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ইনোভেশন, আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কম্পিউটার কুইজের পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় ডিজিটাল সেবাসমুহের প্রতি সাধারণ মানুষকে আর্কষিত করার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিভিলের ৩য় সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী মেজবাউল আলম রুমী তার নতুন উদ্ভাবনী ষ্টলে নিয়ে এসেছে। তার নতুন উদ্ভাবনীর মাধ্যমে সহযেই যোগযোগ ব্যবস্থাকে আরো ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

বাস এবং ট্রেনলাইন পাশপাশি হয়ে রেল লাইনের নিচে দিয়ে বাস চলাচলের ব্যবস্থা রেখেছে তার এই উদ্ভাবনীর মদ্য দিয়ে। যাতে করে একদিকে সড়ক দূর্ঘটনা রোধ এবং অন্যদিকে যানজট মুক্ত রাখতে পারবে সেসব শহরসমুহ যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

একই প্রতিষ্ঠানের ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছে বাসাবাড়িতে কেউ না থাকলেও গেটের বা রাস্তার পাশের লাইট জ্বালানোর জন্য অটোমেটিক কন্ট্রোল এর মাধ্যমে জ্বলা এবং নেভাতে সক্ষম হবে এমন একটি মেশিন।

এরমাধ্যমে সূর্যের আলো কমে অন্ধকার হলে লাইটটি জ্বলে উঠবে আবার সুর্য উঠলে অটোমেটিক সেই বাতি বন্ধ হয়ে যাবে। মেলায় ষ্টল নেওয়া সুন্দরবন কুরয়িার সার্ভিসের পার্শ্বেল ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের কুরিয়ার সার্ভিসের কোম্পানী সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।

সুন্দরবন কুরয়িার সার্ভিসের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি রেজাউর রহমান তপন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে যেসব ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে তাদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য যে পণ্যপরিবহন কার্যক্রম সৃষ্টি হবে দেশের প্রতিটি মানুষ সেই জরুরী সেবা নিতে পারবে। তাতে করে আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের ষ্টলে গিয়ে দেখা গেলো ‘সাফল্য’ নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের হাতে তৈরী দারুন দারুন নকশী কাথা, কুশনসহ কাপড়ের তৈরী বেশ কয়েকরকম পণ্য। সংস্থার সভানেত্রী শম্পা আক্তার জানান, আমাদের সদস্যরা এসব পণ্য তৈরী করেছে। আমরা অসহায় নারীদেরকে কাজের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করছি।

নারীদের কল্যানে কাজ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি। তবে এখানে আরও অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠানের ষ্টল রয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

মেলার আয়োজকরা বলেন, গত কয়েক বছরে এই ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার মাধ্যমে তথ্য ও প্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে সারা দেশের মতো কুষ্টিয়াও ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করছে। সহজেই পাসপোর্ট অফিসের সেবা পাচ্ছেন লোকজন। এখন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য মোবাইলে জানিয়ে দেয়া হয়।

এআই