মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, মন্দিরের ভুয়া কমিটি, নামসর্বস্ব সামাজিক ক্লাব-সংগঠন দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিজ পকেটে ঢুকাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।
উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতি এবং চন্দন কুর্মি নামের স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
২৯ জুন বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর টাকা আত্মসাতের এমন অভিযোগ করেছেন বরমচাল চা বাগানের চা শ্রমীক এবং বরমচাল পরিবহন শ্রমীক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও অভিযোগ করেছেন মহলাল সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি-সম্পাদক।
লিখিত অভিযোগ থেকে এবং সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ সালের অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে কুলাউড়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ৬৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪ শত ৫৮ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে ৮ টি প্রকল্পে মোট ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে কোনাগাঁও জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যদিও ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব বরমচাল ইউনিয়নে নেই। এছাড়া কালামিয়া বাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এই নামেও কোনো মসজিদ খোঁজে পাওয়া যায়নি।
বরমচালের কালামিয়ার বাজারে একমাত্র মসজিদ হচ্ছে ‘বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ’। এই মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান সোলার প্যানেলের জন্য বরাদ্দ সম্পর্কে কিছুই জানেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
এছাড়াও বরমচাল চা বাগানে অবস্থিত ‘শ্রী শ্রী কৃষ্ণ মন্দির উন্নয়ন’ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ওই মন্দিরের সভাপতি সম্ভু বাউরী ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাত্র এবং সাবেক বাগান পঞ্চায়েত স্থানীয় মুরব্বী গৌরা কুর্মি, অতুল কর্মকার মন্দির উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
এমএনজে





