বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধনের বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
বিচার, প্রশাসন ও প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউটে রোববার সকালে সাব-রেজিস্ট্রারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারা (বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার) সংশোধন বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে নির্দেশনা ছিল। সম্প্রতি সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এখন সেই ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আমার অবস্থান পরিস্কার করে দিয়েছি, সরকারের অবস্থান এটা। এই মামলাটা খারিজ করার সময় আপিল বিভাগ বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে আমি শুনেছি, তারা কিছু মোডিফিকেশন করবেন। সেই মোডিফিকেশন না আসা পর্যন্ত আমরা এখানে কোনো পদক্ষেপ নেব না।’
সাম্প্রতিক আলোচিত সাতক্ষীরার জবেদ আলীর বিচারকের ভুলে ১৩ বছর কারাভোগ করেছেন। অপরদিকে ভুল আইনে বিচার করায় সাতক্ষীরার আবদুল জলিল ১৪ বছর ধরে কারাভোগ করেছেন। এসব ঘটনায় বিচারকদের কোনো দুর্বলতা বা অপরাধ হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দুটো ঘটনা আমি খবরের কাগজে দেখেছি সেটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বিচার বিভাগের ভুলত্রুটি হবে না, এমন নিশ্চয়তা তো আমি দিতে পারি না।তিনি বলেন, কারণ এটা তো মানুষ চালিত। এরকম ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেটি দেখা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।’
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ভুমিকা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং করেন। এমন ঘটনা যদি চোখে পড়ে আপনারা নিশ্চয়ই আমার গোচরে আনবেন। তাহলে আমি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেব। এতোটুকু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি।’
এক্ষেত্রে বিচারকদের কোনো ব্যর্থতা থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? জানতে চাইলে আইমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই, এটাই স্বাভাবিক। কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে ডিপার্টম্যান্টাল প্রসিডিউর হবে। এবং সেখানে যদি কোনো ফৌজদারী অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে মামলা হবে। আর দেওয়ানী অপরাধ হয় সেখানেও মামলা হবে।’
এআই





