গণমাধ্যমের ওপর ‘আরোপিত নিষেধাজ্ঞা’র বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তোলার আহবান জানিয়েছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘অনিশ্চয়তা, ভয়ভীতি আর সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণের শক্তি গড়ে উঠুক, নির্বাচনে জনগণের ঢল নামুক; ভোটকেন্দ্র হোক ভোটারের’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান।
শহীদুল আলম বলেন, ‘রিপোর্টার-ফটো সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এখন অনেক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের যদি ভয় না থাকে তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন কী?
সুষ্ঠুভাবে যদি নির্বাচন হয় তাহলে সকলে ছবি তুলবে, সবাই রিপোর্ট করবে, সকলে জানাবে, অংশগ্রহণ করবে। সেটার ব্যাপারে সরকারের ভয় পাওয়াটাই ইঙ্গিত করে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি।’
তিনি আরো বলেন, এই অবস্থায় আমাদের জোরালো দাবি জানানো প্রয়োজন, সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে।
জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এবং জনগণকে জানানোর অধিকার থেকে যাতে আমরা বঞ্চিত না হই সেই জায়গাটা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোকচিত্রী শহীদুল বলেন, নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তার সাথে আরেকটি জরুরি প্রয়োজন সবাইকে সাহস যোগানো।
জনগণের হাতে যেসব ক্ষমতা সেটা সব রাজনৈতিক দলকে বোঝাতে হবে। দেশ পরিচালনার জন্য আমরা যাদের দায়িত্ব দিচ্ছি তাদেরও এটা বোঝাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৫টি দাবি জানায় সুশীল সমাজ। এগুলো হলো- ১. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেষ সময়টুকুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বাধীনভাবে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে দিতে হবে।
৩. হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের ও ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারদের মুক্তি দিতে হবে।
৪. সকল প্রকার যোগাযোগে বাধা সৃষ্টির বদলে তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
৫. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী এবং তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
লিখিত এই বক্তব্যে দেশের ২৯ জন সুশীল নাগরিক একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এএস





