নরসিংদীতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহত সন্ত্রাসীর নাম আরিফ হোসেন (২৭)।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আরিফ মারা যায়।

সে সদর উপজেলার মাধবদী পৌর এলাকার বিরামপুর মহল্লার হালিম ড্রাইভারের ছেলে। আরিফ হত্যা, অস্ত্র ও ডাকাতির ৯টি মামলার আসামি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে সন্ত্রাসী আরিফ, আজিম ও হাদি নামের তিন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে সৈকারদী এলাকায় ঘোরাফেরা করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার দিবাগত রাতে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা সড়ক এলাকার সৈকারদী এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরিফ, আজিম ও হাদি এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে আরিফ দুই পায়ে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে।

অন্যদিকে আজিম ও হাদি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আরিফকে আহতাবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশ।

রাত ৩টার দিকে পুলিশ আহত আরিফকে নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভোর ৪টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সোয়া ৮টার দিকে সে মারা যায়।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মিজানুর রহমান জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরিফ নামের এক রোগীকে পুলিশ নিয়ে এসেছিল।

রোগীর দুই হাঁটুতে দুটি এবং ডান বুকের পেছনে অর্থাৎ পিঠে একটি গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। বুকের গুলিটি সম্ভবত ফুসফুসে আটকে ছিল। তাই জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ’

নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহত আরিফ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি হত্যা, চারটি বিস্ফোরক ও একটি ডাকাতির।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। তার লাশ বর্তমানে সেখানেই রয়েছে। আমাদের লোকজন গেছে। বন্দুকযুদ্ধ চলার সময় তার সঙ্গে আরো দুজন সন্ত্রাসী ছিল। তাদের গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত আছে।’

এসএইচ