প্রানি সম্পদ অধিদফতরের খামখেয়ালীপনায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান আটকা পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ চালানের মালামাল নস্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
কাস্টমস সুত্র জানান, ভারত থেকে আমদানি করা পল্ট্রি ফীড ও এনিম্যাল ফীড সাপলিমেন্ট এর পন্য আমদানির ক্ষেত্রে অধিদফতরের এনও সি আবশ্যক বলে শুধুমাত্র বেনাপেল কাস্টমস হ্উাসকে পত্র জারি করায় বেনাপোল বন্দরে ৩০/৪০ টি পল্ট্রি, ফিস ও পশু খাদ্য আমদানি ও খালাশ বন্দ রযেছে।
আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ অনুচেছদ-১৭ এর শর্ত প্রতিপালন করা হলেও শুধুমাত্র একটি পত্রের কারনে বন্দর থেকে খালাশ বন্ধ রয়েছে। মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে রফতানি কারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তেজস্ক্রীয়তা পরীক্ষন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়ে থাকে। জিএমও টেস্ট সনদ দাখিল সাপেক্ষে পন্য চালান বন্দরে পৌছার পর সরকার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে ক্লোরোফিনিক্যাল, নাইট্রোফুরান ও এন্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে তার সঠিকতা পাচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের বন্দর সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, আইপিও সব ধরনের শর্ত পুরন করা হলেও শুধুমাত্র প্রানী সম্পদের একটি চিঠির কারনে বন্দরে আটকে আছে ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্য। কাস্টমস এর এসআরও ১৩০-আইন/২০২৭/১৬ কাস্টমস তারিখ ০১/৬/২০১৭ আদেশে বলা হযেছে টেবিল ভুক্ত হাস-মুরগী ও পশু খাদ্য সম্পূর্ন শুল্কমুক্ত ভাবে ছাড় করনের ক্ষেত্রে প্রানী সম্পদ অধিদফতরের এনও সি দাখিল করতে হবে। যদি এনও সি না থাকে তাহলে তাকে শুল্ক পরিশোধ করেই খালাশ নিতে হবে।
বেনাপোল সিএন্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ বন্যার কারনে মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ অনুসরন না করে শুধুমাত্র প্রানী সম্পদ অধিদফতরের একটি চিঠির কারনে বেনাপোল বন্দরে ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান আটকে থাকায় সমস্যা আরো প্রকটআকার ধারন করেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে অমদানি নীতি অনুসরন করে আটক থাকা মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান খালাস দেয়া জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, কাস্টমস এর সাথে এনিয়ে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের একাধিক বৈঠক হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
শার্শা উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ জানান, মৎস্য, হাস-মুরগী ও পশু খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রণীসম্পদ অধিদফতরের লাইসেন্স ও এনও সি আবশ্যক। তবে কাস্টমস যদি মনে করেন তারা আটকে থাকা পন্য খালাশ দিতে পারেন। শুধুমাত্র বেনাপোল’র ক্ষেত্রে কেন পত্র দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, পত্র ঢাকা থেকে দিয়েছে, আমার জানা নেই।
নাছির/এমবি





