গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় আহত ঠিকাদার ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রিপন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
একই ঘটনায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করে। উভয় মামলায় আসামি রয়েছেন তিন জন করে।
এদিকে, মামলা দায়েরের পর আসামি গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এসব ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১২ মে থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫টি অঞ্চলে ৬১৪টি গ্রুপে দেড়শ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার হয়। ১২ মে থেকে সিডিউল বিক্রি শুরু হয়। চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। ২০ মে সিডিউল জমা দেওয়ার তারিখ।
একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিডিউল বিক্রি করতে বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন ধরে ঠিকাদারদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে আহত বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রিপন জানান, তিনি মেসার্স কে আর ট্রেডিং এর মালিক। গত বছর মেসার্স এস এস এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহজাহান মিয়া সাজু তার নিকট থেকে ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নেয়। ওই টাকা এখনো তিনি পরিশোধ করছেন না।
সম্প্রতি সাজু মিয়া রিপনের একটি কাজের ৯ লাখ টাকার চেক সিটি করপোরেশন থেকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার শাহজাহান মিয়া সাজু নগর ভবনে তার ওপর হামলা করে। রিপনকে বাঁচাতে এসে রক্তাক্ত জখম হয় রিপনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আলী ।
সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর হয়েছে সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার কক্ষ। সংঘর্ষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান কাজল, এস এম শামসুর রহমান মাসুদ, শহর পরিকল্পনাবিদ সুমনা শারমিন সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাঁচ ভাঙচুর হয়েছে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনর রশীদ বিপুল পরিমান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনর রশীদ বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এএইচ





