আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং দেশের একমাত্র কার্প জাতীয় মাছের বৃহৎ প্রাকৃতিক প্রজননস্থল চট্টগ্রামের হালদা নদীতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাতের অন্ধকারে একশ্রেণির অর্থলোভী জেলেদের জাল পেতে মাছ চুরির কারণে হালদা নদীতে বিপন্ন মা মাছের সংখ্যা এখন মাত্র ১০০-তে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে হালদায় কার্প জাতীয় মাছ অর্থাত্ কাতল, রুই, মৃগেল এবং কালিবাউশ মাছের পর্যাপ্ত প্রজননের জন্য বর্তমানে এখানে ১ হাজার মা মাছ থাকার প্রয়োজন ছিলো।

মা মাছগুলো চোরদের হাতে বিলুপ্ত হওয়া অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের এই সুপ্রাচীন প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজননস্থল হাটহাজারির হালদা নদী একটি বিরাণ মাছ প্রজননস্থলে পরিণত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের উন্নতজাতের কার্প মাছের উৎপাদন। বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ২/৩ বছর ধরে হালদার মা মাছ কমে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

হালদা রক্ষা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, সমপ্রতি হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহের পর বিগত প্রায় এক দশকের প্রেক্ষাপটে ‘ব্যাক কালেশন’ পদ্ধতিতে ডিমের পরিমাণের উপর গবেষণা চালানো হয়।

এতে ধারণা পাওয়া যায় যে, বর্তমানে হালদায় মাত্র ১০০টি মা মাছ রয়েছে। অথচ এখানে থাকার প্রয়োজন ছিলো ১০০০টি মা মাছ।

তিনি জানান, হালদার মা মাছগুলোকে চোরদের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক নিরাপত্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, কিছুদিন আগে নগরীর অভিজাত মার্কেট কাজীর দেউরি থেকে একটি মা মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মঞ্জুরুল কিবরিয়া জানান, পুকুরের মাছ বড়জোর ১০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে। হালদায় ১০ কেজি থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত মা মাছ রয়েছে। হালদায় মাছের বৃদ্ধিও ঘটে অনেক দ্রুত।

পুকুরের বা খামারের ক্ষুদ্র জলাশয়ের মাছগুলো বড় হতে অনেক সময় নেয়। কিন্তু হালদা নদীর বা কাপ্তাই লেকের মাছ দেখলেই বোঝা যাবে এগুলো বড় বিচরণ ক্ষেত্র থেকে এসেছে।

হালদা-কাপ্তাই-এর মাছের মুখের গড়ন, ফিন ও লেজের গড়ন অন্য রকম হয়। মাছ চোরেরা হালদার ১৬ কেজি থেকে ২০ কেজি ওজনের মাছ চুরি করে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে পুকুরের সদ্যধরা তাজা মাছ বলে চালিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অধ্যাপক কিবরিয়া জানান, হালদা নদীর মাছের উপর এ যাবত্ কোনো আনুষ্ঠানিক শুমারি বা জরিপ হয়নি। নদীর পানি ঘোলা হওয়ায় এখানে প্রচলিত জরিপ পদ্ধতি কাজে লাগানো যায় না। আবার ট্র্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে মাছগুলো প্রজননস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশংকা আছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের রামগড় উপজেলার কাছে পাতা-ছড়া হালদা নদীর উত্সস্থল। প্রায় ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হালদা নদী চট্টগ্রামের কালুরঘাটের কাছে এসে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। হালদার মূল মৎস-প্রজননস্থল চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাতেই প্রাচীনকাল থেকে অবস্থিত।

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ