সকালে ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকায় বিশ্ব ইজতেমাগামী প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় নিহত চারজন যশোরের বাসিন্দা। এরমধ্যে তিনজনই যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী।
তাদের নিহতের খবরে এলাকায় মাতম চলছে। আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকজন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
নিহতরা হলেন, যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মোতলেব বিশ্বাসের ছেলে হাজী নাজিম উদ্দিন (৩৫), মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে হাজী হাফেজ মোহাম্মদ রইস উদ্দিন (৩২), মৃত শাহবুদ্দিন মোল্লার ছেলে হাজী নাসির উদ্দিন (৪০) এবং প্রাইভেটকার চালক সদরের সাড়াপোল রূপদিয়া এলাকার রেজোয়ান (২৭)। দুর্ঘটনায় আহত দুজন পিংকি মোটর্সের মালিক রহিম এবং মোহনা মোটর্সের মালিক মুরাদ।
নিহত হাজী নাজিম উদ্দিনের ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। ওই সময় গুরুতর আহত ছিলেন গাড়িচালক রেজোয়ান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
হাজী নাজিম উদ্দীনের স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তার স্বামী নিজস্ব প্রাইভেটকারে তার সঙ্গীদের নিয়ে বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টার দিকে তারা খবর পান দুর্ঘটনায় তার স্বামীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহত হাজী হাফেজ মোহাম্মদ রইস উদ্দিনের ছোটভাই রেজাউল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ভাই স্থানীয় ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্যে ফয়জুল উলুম বাগে জান্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে অনেকেই পড়াশুনা করছেন।
তার প্রতিবেশীরা জানান, নিহত তিনজনই ছিলেন সদালাপী, সৎ ও মানবদরদী। ব্যবসায়ের পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষের কল্যাণে নানামুখি কাজ করতেন। একই এলাকায় তিনজন হাজীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, সকালে ধামরাইয়ে ট্রাকের সঙ্গে ইজতেমাগামী একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে তিন মুসল্লি ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাইভেটকার চালকের মৃত্যু হয়।
এসএইচ





