সত্য কথা বললে তা সরকারের ঘাড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। সত্য না বলে তার বদ হজম হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এখন কিছু সত্য না বললে জনগণের গালি খেতে হবে।
রোববার (০৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কে দুর্ঘটনা ও সড়ক নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই অনেক কিছু হজম করেছি। এখন বদ হজম হয়ে গেছে। সেজন্য কিছু সত্য কথা বলতে হবে। তবে সত্য বললে সরকারের ঘাড়ে যাবে, নয়তো বিআরটিএর ঘাড়ে যাবে। আর না বললে আমরা পাবলিকের গালি খাবো।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন নামে-বেনামে নানা অনিয়ম করেন উল্লেখ করে জনসম্মুখে তার মুখোশ উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছেন শাজাহান খান।
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নামে ইলিয়াস কাঞ্চন অর্বাচীনের মতো কথাবার্তা বলেন। দক্ষ চালক তৈরিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বরং নামে-বেনামে ইলিয়াস কাঞ্চন নানা অনিয়ম করেন। এগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে, তার মুখোশ উন্মোচন করা হবে।’
শাজাহান খান বলেন, একটা কথা আছে- যত দোষ নন্দঘোষ, সড়কে অ্যাক্সিডেন্ট হলেই দোষ ড্রাইভারের। একসময় দেখছি সড়কে অ্যাক্সিডেন্ট হলেই প্রেসক্লাবের সামনে আমার কুশপুতুল পোড়ানো হতো। অ্যাক্সিডেন্ট হলেই নাকি শাজাহান খান দায়ী!
‘কী কারণে? আমি নাকি, আপনাদের (চালক) প্রশ্রয় দিই, আশকারা দিই। আমি বুঝলাম না, আমি কীভাবে আশকারা দিলাম?’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, এত বছর ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠলো না কেন? এত বছরে বিআরটিএ-এর মাধ্যমে সারাদেশে ড্রাইভার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়নি কেন? বলা হচ্ছে- ১৩৫ টি ইনস্টিটিউট আছে, আমার জানা মতে, ১২০/১৩০ টার মতো হবে চালু আছে। এর মধ্যে আমাদের নির্দেশক আছেন ১২৮ জন। ১৩৫ টি ইনস্টিটিউট থাকলে ১২৮ জন দিয়ে চলে কীভাবে? সুতরাং তথ্যটি সঠিক নয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে জাল টাকা ছাপানোর মেশিন, জাল পাসপোর্ট ছাপানোর মেশিন ধরা পড়ে, আপনারা কী কেউ বলতে পারবেন-ভুয়া লাইসেন্স ছাপানোর মেশিন কখনও ধরা পড়েছে?
‘কারা ধরবে? বিআরটিএ-এর মাঝেই তো এসব লোক মুখ লুকিয়ে রয়েছে। সেখানেই যদি এসব লোক মুখ লুকিয়ে থাকে তাহলে এদের ধরবে কারা? বিষয়টাকে একটা শৃঙ্খলায় আনতে হলে অবশ্যই জাল লাইসেন্সধারীদের প্রথমে ধরতে হবে।’
সাবেক নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কমিটির দেওয়া ১১১ টি সুপারিশের মধ্যে সাতটি বিষয়ের ওপর আমরা অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এর মধ্যে সচেতনতা ও দক্ষতা অন্যতম। বিআরটিএ-এর দক্ষতা বাড়াতে হবে, জাল লাইসেন্স দেবে না, ঘুষ খাবে না-এসবও নিশ্চিত করতে হবে।’
‘ট্রাকের বড় বড় বাম্পার কোন আইনে আছে, দিলো কেমনে, কে দিলো? বিআরটিএ দিয়েছে। এগুলো আমরা এখন বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু এত বছর থাকলো কীভাবে? এখানেই বিআরটিএ-এর কাহিনী। দরকার সক্ষমতা, পর্যাপ্ত জনবল।’
ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী সিমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি তানভীর হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমুখ।
এএস





