ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে লালমনিরহাটে ধরলা নদীর পানি বেড়েছে, তবে তিস্তাসহ অন্য ছোট নদী গুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি’র উন্নতি হলেও দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর তীরবর্তী কুলাঘাট, বড়বাড়ী ও মোগলহাট ইউনিয়নের বেশ কিছু পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বুধবার সকালে ধরলা নদীর লালমনিরহাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর দোয়ানী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ সেঃ মিঃ নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের মাঝে দুই দিন ধরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলা উদ্দিন খানসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও গণ ত্রাণ বিতরণ করছে। জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর জন্য ১৫০ মেঃ টন চাল বরাদ্দ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। তবে মানুষ জনের দুভোর্গ বেড়ে গেছে। নিম্ম আয়ের লোকজনের কাজ না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছে। গোটা অঞ্চল ২ দিন পানিতে ডুবে থাকায় গো-খাদ্য’র সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ জনের মাঝে যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনা অনেক কম। যে কারণে তারা ত্রাণ বিতরণের তালিকা তৈরী করতে হিমশিম খাচ্ছি। পানিবন্দি লোকজনের জন্য আরও ত্রাণ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এদিকে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, টংভাঙ্গা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ডা এলাকার চরে ১৮ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি গত ২ দিন বৃদ্ধি পেলেও এখন তা কমতে শুরু করেছে। তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি’র কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আমরা প্রতি মুহুর্তে¡ বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলা উদ্দিন খাঁন জানান, ভারি বর্ষন ও ভারত থেকে পানি আসায় লালমনিরহাটে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। তবে তিস্তা নদীসহ ছোট নদী গুলোর পানি কমে যাওয়ায় ওই এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫০ মেঃ টন চাল ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি মুহুর্ত্বে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

নুরনবী/এমই