ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রবেশপথে অ্যাম্বুলেন্সের চাপায় আহত আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো গর্ভের সন্তানসহ ছয়জন।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটায় ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিকশাচালক রমজান (৪০)।
নিহত রমজান কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মৃত জজ মিয়ার ছেলে। ঢাকায় রায়েরবাগের মেরাদনগরে থেকে রিকশা চালাতেন তিনি। ঘটনার দিন স্ত্রীর সাথীর চিকিৎসা করাতে ঢামেক হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি।
এর আগে মারা যান গোলেনূর বেগম (২৫) ও তার ছেলে সাকিব (৭), ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমেনা বেগম সূর্যি (৩৫) ও তার গর্ভের সন্তান এবং অজ্ঞাত পরিচয় একজন (৬০)। নিহত আমেনা বেগম সূর্যির আট বছর বয়সী ছেলে সজীব এখনও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
‘মানব সেবা’ নামে খালি অ্যাম্বুলেন্সটি গত ১৫ অক্টোবর দ্রুতবেগে হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি রিকশাকে ধাক্কা এবং কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন ও অজ্ঞাত পরিচয় এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। তিনি পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করতেন বলে জানান স্থানীয়রা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর মৃত্যু ঘটে শিশু সাকিবের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৩টায় মারা যান তার মা গোলেনূর বেগম।
সাকিব ও তার মা গোলেনূরের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙাবালির বাইজদা এলাকায়। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া ছেলে সাকিবকে চিকিৎসক দেখাতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তার বাবা ফেরদৌস ও মা গোলনূর। গোলেনূরের কোলে থাকা সাত মাসের শিশু আকাশ বেঁচে গেছে অলৌকিকভাবে।
আহত ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমেনা বেগম সূর্যির গর্ভের সন্তানটিকে মৃত অবস্থায় অস্ত্রোপচার করে বের করেন চিকিৎসকরা। সন্ধ্যায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমেনা বেগম সূর্যিও। তার স্বামী ট্রাকচালক জাকির হোসেন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার দু’দিন পর হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। স্ত্রী সূর্যি ও ছেলে সজিব তার সঙ্গে ছিলেন। তার জন্য সকালের নাস্তা নিয়ে আসার সময় অ্যাম্বুলেন্সের নিচে পড়েন তারা।
আহতদের মধ্যে এখন একমাত্র বেঁচে আছে সজিব। সে ঢামেক হাসপাতালেই ভর্তি আছে। সজিবের বাম পা ভেঙে গেছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক সোহেলকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়অ সেই সাথে অ্যাম্বুলেন্সটিও জব্দ করা হয়। তবে ওই অ্যাম্বুলেন্সের মালিক নাসির মিস্ত্রি গাড়িতে ছিলেন না। ওই সময় নাসিরের সহকারী সোহেল গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
এমএনজে





