এব্রোশন করতে গিয়ে অদক্ষ নার্সের হাতে জীবন দিতে হলো এক গৃহবধুকে। নিজের অনিশ্চা সত্বেও স্বামীর প্রবল আগ্রহে এব্রোশনে রাজী হয় সে। বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এক প্রাইভেট ক্লিনিকে। কিছুক্ষণ পর আসেন নার্স , নিয়ে যান অপারেশন থিয়েটারে । ৮ মাসের সন্তান এব্রোশন করতে গিয়ে নিজের অদক্ষতার পরিচয় তুলে ধরে সে। তাৎক্ষণিক জীবনবাতি নিভে যায় দু’ সন্তানের জননীর।
যাকে কিছুক্ষণ আগেই জীবিত নিয়ে আসা হয়েছিল বাড়ি থেকে, সে নারীটি এখন লাশ।
ঘটনাটি নড়াইল সদর উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের এক সংখ্যালঘু দরিদ্র পরিবারের।
জানা যায়, গত ২৫ ফ্রেরুয়ারি শনিবার স্বামী গোলক বিশ্বাস তার স্ত্রীকে এব্রোশন করাতে নিয়ে যান নড়াইল সদরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। যে হাসপাতালের বিষয়ে তাকে পরামর্শ দেন সে তারই প্রতিবেশি অসিম বিশ্বাস। অসিম নাকি সে হাসপাতালে রুগি পাঠিয়ে কমিশনও নিয়ে থাকেন। সে ক্লিনিকেই জীবন গেল তার স্ত্রীর। তাড়াতাড়ি বাড়িতে পাঠিয়ে গৃহবধুর ‘দাহ’ সম্পন্ন করা হয়। ঘটনা জানাজানি না করতে সদর থানার এক এসআইকে বাড়িতে পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয় গোলক বিশ্বাসকে।
নিহত হতভাগীর নাম কাকলী (৩৫) । তার দু’সন্তানের নাম লিংকন (১৪) ও সাগর (১২)। লিংকন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। মায়ের এই মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেননা সন্তানরা । তারা বলছে আমাদের মা’তো বাড়ি থেকে ভাল মানুষ হাসফাতালে গেল। কিন্তু তার কি হল, কেন সে মরল? এসব বলেই চিৎকার করে চলছেন ছেলে দু’টি। তাদেরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে প্রতিবেশীরা বার বার ব্যার্থ হচ্ছেন।
কোন ক্লিনিকে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে জানতে চাইলে গোলক বিশ্বাস বলেন, থানা পুলিশ বাড়িতে এসে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করেছে। তাই কিছু বলা যাবে না।
নড়াইল সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি টাইমনিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই । খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।
রিন্টু/জারিফ





