বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ভেঙে দুটি আলাদা সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দুটি সংস্থা বাস্তবায়ন হলে একটি হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যটি হবে সেবাদাতা সংস্থা। ফলে বর্তমানে বেবিচক যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে।

বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বেবিচক একদিকে বেসামরিক উড়োজাহাজ খাতের জন্য আইনকানুন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ তদারক করে। অন্যদিকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এয়ালাইনসগুলোকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেয়।

জানা গেছে, একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সেবাদাতা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বেবিচকে। এতে বিমানবন্দরগুলোর সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাই ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) দীর্ঘদিন ধরে বেবিচকের এ দুই ধরনের কার্যক্রমকে আলাদা করার তাগিদ দিয়ে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইকাও নির্দেশনা মেনেই বেবিচক ভেঙে আলাদা দুটি সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

রেগুলেটরি বডি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হবে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো ঠিকমতো আইন মেনে চলছে কিনা, তা তদারক করা এবং আইন অমান্যকারীকে শাস্তি দেয়া। অন্যদিকে সার্ভিস প্রোভাইডার বা সেবাদাতা সংস্থার কাজ হবে দেশের সব বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, অপারেশনাল কার্যক্রম, প্রকৌশল বিভাগের উন্নয়ন-সংস্কার, যোগাযোগসহ সব ধরনের সেবা সুনিশ্চিত করা।

বেবিচকের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বলেন, 'নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সেবাদাতা সংস্থা আলাদা হলে কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা থাকবে। সংস্থা আলাদা হলে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সেক্ষেত্রে বিমানবন্দরের এটিসি, কমিউনিকেশন ও ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের জবাবদিহিতা করতে পারতাম। কিন্তু বর্তমানে একই চেয়ারম্যানের অধীনে বা নিয়ন্ত্রণ হওয়ার ইচ্ছা করলেও তাদেরকে সেই কৈফিয়ত চাইতে পারি না। কারণ দিনশেষে একই প্রতিষ্ঠানের অংশ আমরা।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশে আইকাও রুলস অনুযায়ী এভিয়েশন খাতের কাজগুলো আলাদা সংস্থা করে। এমনকি প্রতিবেশি দেশ ভারত ও নেপালেও স্বতন্ত্র বিমানবন্দর সংস্থা রয়েছে। আইকাও নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশেও এটি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইকাও ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) সুপারিশে বেবিচক দুই ভাগ হয়ে গেলে দেশের এভিয়েশন খাতের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডোর (অব.) এম. ইকবাল হোসেন বলেন, 'এটা অবশ্যই সিভিল এভিয়েশনের কাজের ক্ষেত্রে গতি আনবে এবং ফলপ্রসূ হবে। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই সিভিল এভিয়েশনের সার্ভিস বডি আলাদা ও রেগুলেটরি বডি আলাদা। এতে করে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে।' সূত্র: পরিবর্তন ডট কম।

এসএম