ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি কৃত ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করেছে কতৃপক্ষ। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুততম সময়ে আবারো ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
একই সাথে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত শিক্ষক ‘এফ’ ইউনিটের সমন্বয়কারী মোঃ নূরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর ফটোকপি মেশিন চালক আলাল উদ্দিনকে স্বাময়ীক বহিষ্কার করা হয়েছে। চক্রের অন্যতম সদস্য গণিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মনজিৎ মন্ডলকে স্বাময়িক বহিষ্কার এবং তার অনার্সের সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। চক্রেকর সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী মিজানুর রহমান লালটু নামের একজন গ্রাম্য ডাক্তারের। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধে মামলা হয় এবং পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চুক্তি অনুসারে দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে নেয় চক্রের সদস্যরা।
‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্ন পত্রে ৬০ নম্বরের গণিত এবং ২০ নম্বরে ইংরেজি থাকে। ঘটনার তদন্তে কমিটি যে প্রশ্নে ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথমে সেই প্রশ্নপত্রেই ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবারো পরীক্ষা নেয়। এর পর মুল প্রশ্নের সমমানের আরো একটি প্রশ্ন তৈরী করে পরীক্ষা নেয় তদন্ত কমিটি। এতে দেখা যায়, যে সকল শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় গণিতের ৬০ নম্বরের মধ্যে ৫০ বা তার অধিক পেয়েছিল তাদের প্রায় সবাই ফেল করেছে। ঘটনা তদন্তের এক পর্যায়ে বেড়িয়ে আসে জালিয়াতির এই ভয়াবহ চিত্র।
স্বাময়ীক বহিষ্কৃতদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না? তা জানতে চেয়ে বহিষ্কৃতদের নোটিশ দেওয়া হবে। নোটিশ দেওয়ার সাত কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দিতে হবে। নোটিশের যথাযোথ জবাব না পাওয়া গেলে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে প্রশাসন। চক্রেকর সাথে জড়িত মিজানুর রহমান লালটু ক্যাম্পাসের সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাদের দায়ে মামলা করবে বলে জানা যায়।
এদিকে অনিয়মের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় টেলিফোন শাখার কর্মকর্তা (স্বাময়ীক বহিষ্কৃত) তৈামুর রেজা তুহিনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
সিন্ডিকেট সভা শেষে সাংবাদিকেদের সাথে কথা বলেন ভিসি ড. রাশিদ আসকারী। তিনি বলেন, ‘অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মানুসারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘এফ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি। ঘটনার সাথে যদি আরো কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযোথ ব্যবস্থা নিব।’
এমই





