‘‘একটা দুইটা ভুলের জন্য গোটা পুলিশকে নিয়ে এত সমালোচনা করবেন না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নয়। অনেক সময় পুলিশের সদস্যরা তাদের অপরাধের চেয়েও বেশি শাস্তি পেয়ে থাকে। তাই পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালনকালে সহায়তা করুন।” গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজারে কমিউনিটি পুলিশের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বি নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, রাব্বি নির্যাতনের ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত শেষে তারা আমাকে জানিয়েছে- গোলাম রাব্বি জেনেভা চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় তার দেহ তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন। শুধু আইডি কার্ড দেখালে তো এটি নিশ্চিত হওয়া যায় না যে ওই ব্যক্তি তিনি। তাকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুই ঘণ্টা আটকিয়ে রেখেছেন। তা না করে তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের কাজটি করা যেত। কিন্তু গোলাম রাব্বি যেহেতু পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন সেটি ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

আমরা তো সবসময় আইন প্রয়োগ করি না। আমি বলেছি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে। তদন্তে যেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেজন্য তাকেও আমি ওই থানায় থাকতে দেইনি। এখন বিষয়টি আদালতের কাছে গিয়েছে। আদালত সবার উপরে। তারা যে আদেশ দেবেন সেই অনুযায়ী কাজ হবে। তবে এত বেশি সমালোচনা করলে গোটা পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়।

আইজিপি বলেন, ২০১৩ সালে পুলিশের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর অসীম ত্যাগ রয়েছে। আমরা জনগণের জন্য নিরাপত্তা দিচ্ছি। আমাদের সদস্য সংখ্যা সীমিত। এক হাজার লোকের জন্য এখনও একজন পুলিশ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন-সাংসদ আসলামুর রহমান, সাংসদ এনামুর রহমান, সাবেক সাংসদ বেনজীর আহমেদ, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুজ্জামান।

কমিউনিটি পুলিশের এই সভায় সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার কমিউনিটি পুলিশ সদস্য ছাড়াও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। 

এমএম