তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসে সংঘাত, সহিংসতা পরিহার করে আলোচনা বা সমাঝোতার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার চেষ্টা কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়। অতীতেও এ ধরনের পদক্ষেপ কোনো ফল দেয়নি। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। সমঝোতা না হলে এই অচলাবস্থার অবসান হবে না। অর্থনীতি ও উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য।
শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতায় একথা বলেন তিনি।
বর্তমান চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এই পাবলিক পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতায় দেশের খ্যাতনামা ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
‘গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব’ নিয়ে পাবলিক পার্লামেন্টের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আকবর আলি খান আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য রাজনৈতি স্থিতিশীলতা ও শান্তি দরকার। এ কারণে ইতিবাচক রাজনীতি আমাদের সকলের কাম্য।
আমাদের নিজেস্ব সাফল্যের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালে আমাদের দেশে ৭০% দরিদ্র ছিল এখন সেটা সেই হিসেবে ২৫% নেমে এসেছে। কিন্তু বিশ্বের পিপির হারের পরিপেক্ষিতে আমরা এখনো ৮০% দরিদ্রসীমার নিচে আছি। সাফল্য আমরা পেয়েছি, তবে আমাদের আরো সাফল্য অর্জন করতে হবে। আর তার জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে হবে।
ব্যাংক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বন্ধকবিহীন যে ঋণ এই ঋণের যে ধারণা এই ধারনার ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যদি বাংলাদেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব, সরকার ভর্তুকিসহ হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ বছরের পর বছর দিয়েছে, এগুলোর সুদ তো দূরের কথা আসলসমেত লোপাট হয়ে গেছে। যার ফলে দেশের কোনো অর্থনৈতিক উন্নতি হয়নি। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী ভালো না খারাপ, সেটা বোঝার উপায় কী।
দেশের লোক এতে অংশগ্রহণ করছে কি করছে না তা। তিনি বলেন, যারা এককালে এই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসুচীতে অংশগ্রহণ করেছিল তার ২০% বা ২৫% এই ক্ষুদ্র্ঋণ কর্মসূচী ছেড়ে দিয়েছে তাহলে প্রশ্ন করা যেত ক্ষুদ্রঋণের সমস্যা কোথায়। বছরের পর বছর এই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসুচী আরো জনপ্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী যেহেতু তিন/চার দশক ধরে চালু রাখতে পেরেছে তার মানে এর ভিতরে শক্তি আছে।
যদি শক্তি না থাকতো তাহলে এতদিনে এই ব্যবস্থা মুখ থুবরে পরতো। বাংলাদেশের দারিদ্রের একটি বিশেষ কোনো সমাধান নেই। এর জন্য অনেক সমাধান খুজঁতে হবে। আর ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী একটি সফল কর্মসূচী।
এএইচ





