পাবনার অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র কাশীনাথপুর বাজারে শুক্রবার রাতে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে অবস্থিত মক্কা জুয়েলার্স নামে একটি জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ২১২ ভরি সোনা ও রুপা লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় ডাকাতদের গুলিতে ৩ ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন- মৌলভী আব্দুস জোহা, সাইফুল ইসলাম ও মোসলেম। এদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ীরা জানান, ইফতারির পর পরই ৭-৮জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল ওই দোকানে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে সোনা ও রূপার অলংকার রাখা সিন্দুকের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা ২১২ ভরি সোনা ও রূপার অলংকার লুট করতে থাকে। এ সময় দোকান মালিক ও কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। ডাকাত দল যাওয়ার সময় কয়েক রাউন্ড ককটেল এর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা ওই সময় মার্কেটের পাশে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইয়ামিনকে বার বার খবর দিলেও তিনি ফোর্সসহ সময়মত আসেনি। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাশীনাথপুর মোড়ে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের দু'পাশে শত শত গাড়ি আটকা পরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বেড়া-সাঁথিয়া সার্কেল এর সহকারি পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, আমিনপুর থানার ওসি হুদা তাজুল হুদা, সাঁথিয়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান।
তারা কাশীনাথপুর বণিক সমিতির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মীর মঞ্জুর এলাহী, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মুন্সী, জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শাহ আলম সোহেলসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ঘন্টাখানেক আলোচনার পর প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে ব্যবসায়ীরা রাত সোয়া ৯টার দিকে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
বেড়া- সাঁথিয়া সার্কেল এর সহকারি পুলিশ সুপার জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির সক্ষমতা ৩ দিনের মধ্যে আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া ডাকাতদের মালামালসহ ধরার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
এমআর





