চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস কার্যালয়ের কর্মচারী আনোয়ার হোসেনকে অপহরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটার দিকে ১০/১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্রশস্ত্রসহ নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তাকে অপহরণ করে। এ অপহরণের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দীনের হাত রয়েছে বলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নিজের মেয়ের পরিচয়পত্র নিতে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস কার্যালয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পটিয়া উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কামাল উদ্দিন। কিন্তু ডকুমেন্ট না থাকায় প্রার্থী ছাড়া কাউকে পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান কোতোয়ালী থানা নির্বাচনী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান।

এ সময়  কামালউদ্দিন নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেন। এর পরও পরিচয়পত্র না দেয়ায় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিকালে ১০/১২ জনের একটি দল নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেনকে অপহরণ করে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, কারা নিয়ে গেছে আমি জানি না। তবে তারা আনোয়ারকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে তার পরিবার ও অন্যান্য কর্মচারীদের জানিয়েছেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার প্রতিবাদে এক কর্মচারীকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি।

এদিকে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, আনোয়ারকে চট্টমেট্রো থ: ১১৬৪১৭ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। শফিককে তাদের হাতে তুলে দিলে আনোয়ারকে ফেরত দেয়া হবে বলে ফোন করে জানায় তারা।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন জানান, 'মেয়ের পরিচয় পত্র না পাওয়ায় একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি চলছিল। বিষয়টা তাৎক্ষণিকভাবেই জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম।  জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখছেন। কাউকে তুলে নেয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ’

এদিকে, তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রায় তিনঘণ্টা পর মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় আনোয়ারকে নগরীর টেক্সটাইল গেইট এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয় বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ