চতুর্থ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। চলতি সপ্তাহেই এ তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হলে সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার নারী জনপ্রতিনিধি পাবে উপজেলা পরিষদ। চার দফায় এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার কিংবা আগামী সপ্তাহে প্রথম দফার তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
এর আগে দেশে ৩ টি উপজেলা পরিষদ গঠিত হলেও এই পদে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ পদ শূন্য রেখেই তৃতীয় উপজেলা পরিষদের ৫ বছর মেয়াদ শেষ হয়েছিল।
সূত্র আরও জানায়,গত মাসে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নোট দেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। এর পরই এ নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান, দুই জন ভাইস চেয়ারম্যান (একজন পুরুষ ও একজন নারী)উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সাময়িকভাবে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী, উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভার (যদি থাকে) মেয়র বা সাময়িক দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যগণকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হবে।
উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে জেলা প্রশাসকের প্রকাশ করার কথা। এরপর এলাকার অখণ্ডতা এবং যতটুকু সম্ভব ভোটার সংখ্যার বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রেখে সীমানা নির্ধারণ করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
উপজেলা পরিষদের অপর এক আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার (যদি থাকে) মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ৩৩টি জেলার দেড় শতাধিক উপজেলার ভোটার তালিকা ও সীমানা নির্ধারণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় ২১ জেলার ১১৭ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাকি উপজেলায় দ্রুত সীমানা বিন্যাসের কাজ শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলাগুলোতে ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থাকলে উপজেলায় নারী
সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন হবে ৪টি। ইউপি/পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাই সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার এবং প্রার্থী হতে পারবেন। নির্বাচিতদের জন্য এলাকা বণ্টনও করা হবে।
এ বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, এ নির্বাচনে প্রায় দেড় হাজার নারী জনপ্রতিনিধি পাবে উপজেলা পরিষদ। পরোক্ষ ভোটে সারাদেশে ৪৮৭ উপজেলায় সংরক্ষিত নারী সদস্যদের নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে। এ পর্যন্ত চতুর্থ উপজেলা পরিষদের ৪৭৯ টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও সংরক্ষিত নারী পদগুলো শূন্য রয়েছে। পরোক্ষ ভোটে এই নির্বাচনের বিধান রয়েছে। এখানে ভোটার তালিকা তৈরি ও সীমানা নির্ধারণ একটু জটিল বিষয়। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়টি দেশে নতুন। যে কারণে সবার মধ্যেই এক ধরনের অজানা জটিলতার আশংকা তৈরি হয়েছে। একবার এই পদ্ধতি চালু হলে এ সমস্যা কেটে যাবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করা হবে। এর আগে তৃতীয় উপজেলা পরিষদে বিধিমালা জটিলতা ও সীমানা নির্ধারণ না করায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, নির্বাচন আয়োজনে সমস্যা হবে না। শিগগিরই এ তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা, এএম, ১৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





