ভোটার তালিকা হালনাগাদের দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাসহ কোন বিদেশী নাগরিক যাতে ভোটার হতে না পারে সেজন্য ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ৩ জেলার ১৬ উপজেলাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এসব উপজেলায় রোহিঙ্গাসহ বিদেশীদের হালনাগাদ অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে থানা নির্বাহী অফিসার (টিএনও), গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী ৩ জেলার চিহ্নিত ১৬ উপজেলা হচ্ছে- কক্সবাজার সদর, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও মহেশখালী, বান্দরবানের সদর, আলিকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলা।
এসব উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ফরমে ভোটারদের আদিনিবাস, পিতা-পিতামহের ঠিকানা, সম্পত্তি ও নিকটাত্মীয়দের পরিচয়সহ অন্তত ১৭ ধরনের তথ্য দিতে হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ কমিটি এসব ফরম যাচাই-বাছাই করে দেখবে।
এরই মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবকে প্রধান করে ১৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি, বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে ১২ সদস্যের ৮টি বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি এবং জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ১৮ সদস্যের জেলা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হওয়ায় বর্তমানে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ১৪ উপজেলায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান, কারবারী, হেডম্যান, আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি (পার্বত্য এলাকার ক্ষেত্রে) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া ভোটার তালিকায় কোনো রোহিঙ্গা প্রবেশের ঘটনা জানা থাকলে তা বিশেষ কমিটিকে জানানোর জন্য এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এসব উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আব্দুল মোবারক বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ ফরমের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ভোটার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এবার নিবন্ধন করার সময় কঠোরতা অবলম্বন করছি। এছাড়া বিশেষ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তিন দফায় ৫১৪টি উপজেলা ও থানায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় ১৮২ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ১৫ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ২১৮ উপজেলায় হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে। শেষ দফায় ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৩ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
বিগত ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণীত হয়। প্রতিবেশী দেশ থেকে রোহিঙ্গা ও বিভিন্ন 'বিদ্রোহী' সংগঠনের সদস্যদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে- সন্দেহজনক এমন এলাকার তথ্য চেয়ে ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও চায় ইসি। পরে হালনাগাদের সময় ২০০৯ সালে কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের আবেদন বাতিল করা হয়।
ঢাকা, ২২জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





