সৈনিক লীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই খুন হয়েছেন সৈনিক লীগের বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান (৩৫)।
শুক্রবার রাতে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে রেহানকে।
শনিবার ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে শুক্রবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সৈনিক লীগের শহর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগরসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছেন- সৈনিক লীগের সদস্য সবুজের ভাই সোহান, রাহাত, বিপুল ও বেলাল। এদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ ও দলীয় সুত্রে জানা গেছে, মাস তিনেক আগে সৈনিক লীগের বগুড়া জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটিতে শিমুল হক রেহান আহ্বায়ক এবং মিজান ও বকুলকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়। এ কমিটি দুই মাস আগে সৈনিক লীগের শহর কমিটি বিলুপ্ত করে। ওই কমিটিতে সবুজ সওদাগর যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। নতুন শহর কমিটিতে ডনকে আহ্বায়ক এবং অপর ৬জনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়।
নতুন কমিটি থেকে সবুজ সওদাগর বাদ পড়ায় রেহানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন আগে সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মারা যান। এরপর বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়কের ছবি দিয়ে একটি ব্যানার তৈরি করেন। ওই ব্যানারের নিচে রেহানের নাম লিখে শুক্রবার দুপুরের পর সেটি জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ঝুলানো হয়।
বিকাল ৪টার দিকে সবুজ সওদাগর অফিসের সামনে গিয়ে ব্যানারে রেহানের নাম দেখে তা ছিঁড়ে ফেলে। এনিয়ে দুই জনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে রেহানের আহ্বানে শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাপ্পী ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনের মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করে।
সন্ধ্যার দিকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সৈনিকলীগের নেতাকর্মীদের বসার জায়গায় আহ্বায়কের চেয়ারে রেহানকে বসে থাকতে দেখে সবুজ সওদাগর ক্ষিপ্ত হয়। এনিয়ে আবারো দু’জনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হলে রেহান সবুজ সওদাগরকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে গেলে সবুজ সওদাগর প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে রেহানের বুকে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত মামলা না হলেও পুলিশ সবুজ সওদাগরসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক শহিদুল হক বাপ্পী জানান, দুজনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এর আগেও কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সবুজ সওদাগর রেহানকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
বগুড়া সদর পুলিশ পাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) মঞ্জুরুল হক ভুঞা জানান, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে রেহানকে খুন করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেএ





