তিন বছর পার হলেও আশুলিয়ার শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মোস্তাফিজুর রহমানকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

তাকে গ্রেফতার করতে পারলে আলোচিত এই হত্যা মামলার রহস্যের জট খুলত বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা অবিলম্বে আমিনুল ইসলামের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে দুর্বার আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে শুক্রবার বেলা ১১টায় মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির যৌথ আয়োজনে আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া এলাকায় অবস্থিত বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে ডিজাইনার জিন্স কারখানার শ্রমিক নেত্রী বিথী বলেন, ‘শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন হত্যাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি।’

অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমিনুল ইসলামের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তৈরি পোশাক কারখানা সিআইপিএলের শ্রমিক নেতা ইকবাল বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করায় আমিনুল ইসলামকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। অবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় না আনা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

মানববন্ধন ও সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া, সাভার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি লাবনী আক্তারের সভাপতিত্বে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীমের পরিচালনায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও তৈরি পোশাক কারখানার কয়েকশ’ শ্রমিক ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও কালো পতাকা হাতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) শাশা ডেনিমস লিমিটেড কারখানায় কর্মরত অবস্থায় শ্রমিক প্রতিনিধি ও কল্যাণ কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। এ কারণে শাশা ডেনিমস কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করায় তিনি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেন্টর ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) একজন সংগঠক এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাভার ও আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০১২ সালের ৪ এপ্রিল রাতে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন আমিনুল ইসলাম। পরদিন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করে। দু’দিন পর তার পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পত্রিকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘাটাইল থানায় গিয়ে ছবি দেখে আমিনুলকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ৫ এপ্রিল ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশারের ওপর। এর পর মামলাটির তদন্তভার টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবিরে ওপর ন্যস্ত করা হয়।

ওই বছরের ১৬ নভেম্বর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি আমিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারির আদেশের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে। আদালত তা মঞ্জুর করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জেআই