নওগাঁর রাণীনগর অঞ্চলে এক সময় দেখা যেত ব্যাপক শিমুল গাছ। এই গাছের উৎপাদিত তুলা খুব জনপ্রীয় ছিল।এই শিমুল গাছের তুলা দিয়ে লেপ,বালিশ,তোষকসহ নানা প্রকার বেডিং নির্মানে জুরি ছিলনা এই তুলার।বসন্ত আগমনের সাথে সাথে ফাগুনের প্রথমেই শিমুল গাছগুলোতে ফুটে ওঠে লাল রংয়ের আগুন ঝরা ফুল আর চৈত্রের শেষে ফুটন্ত তুলা বাতাসের সাথে উড়ে উড়ে প্রকৃতিতে নব আমেজের সৃষ্টি করতো।

আমাদের দেশের কবি-সাহিত্যেকদের কাব্য,প্রবন্ধ,গল্প ও রচনায় শিমুল ছিল অন্যতম।শুধু তাই নয় প্রাচিন কাল থেকেই চিকিৎসা কাজে ব্যাবহার হত এই গাছের শিকড়, ছাল ও কচিপাতা। তাছাড়া এই গাছের কাঠ ছিল নির্মান কাজের অন্যতম। কিন্তু মানুষ বানিজ্যিক চিন্তা করায় বিলুপ্ত হতে থাকে এই শিমুল গাছ। এই গাছের কাঠের মূল্য বেশী না থাকায় মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গাছটিকে নির্মুল করতে মেতে ওঠে,এর বদলে অন্য গাছ লাগাতে থাকে যদিও বা প্রাকৃতিক ভাবে গজিয়ে ওঠে মানুষ তা বিনষ্ট করে ফেলে।

অপরদিকে এই শিমুল গাছ আর কেউ রোপন করেনা,তাই রাণীনগর অঞ্চলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই পরিবেশ বান্ধব ওষধি গুন সম্পন্ন শিমুল গাছটি। জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষন প্রকল্পের আওতায় সরকারী ভাবেএসব বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ রোপন করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই শিমুল গাছ সম্পন্ন ভাবে হারিয়ে যাবে।

রাব্বী/জারিফ