ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার আলামতে কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার।
এই মামলার সাক্ষী ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন-সহ পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল (৩১ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা এই সাক্ষ্য দেন।
আদালতে অন্য সাক্ষ্যদানকারী রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী ও রাসায়নিক পরীক্ষক রোমানা আক্তার ও পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি।
জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এমামলায় এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৬৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ (০১ আগস্ট) বৃহস্পতিবার মামলার আরও ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের কৌঁসুলিরা জেরা করেন।
পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানায়, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন বলেন, গত ৬ এপ্রিলের ঘটনার পর বিভিন্ন সময় মামলার ৭জন আসামি আমার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আমি নিয়ম-কানুন মেনে সাত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করি। এছাড়া মামলার ছয়জন সাক্ষীও আমার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার সাক্ষী রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার বলেন, “আদালতের নির্দেশে গত ২ মে আমার কাছে কিছু আলামত পাঠানো হয়। এগুলোর মধ্যে কালো রঙের তৈলাক্ত পলিথিন, সবুজ রঙের সুতি কাপড়ের সালোয়ারের পোড়া অংশ ও পাথরের পুঁতির কাজ করা কালো রঙের বোরকার পোড়া অংশ ছিল। রাসায়নিক পরীক্ষায় এইসব আলামতে কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।”
পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাবের পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি বলেন, “গত ২০ মে আদালতের নির্দেশে একটি সাদা ও সোনালি রঙের অপ্পো মোবাইল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আমি এটি পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেই। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ওই মোবাইল সেটের বিষয়ে চারটি মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি ওই চার বিষয়ে মতামত প্রদান করি। এসংক্রান্ত একটি সিডি আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।”
এমবি





