চাঁদাবাজি ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগে করা দুটি মামলায় খুলনা মডেল থানার নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অপর চারজন হলেন স্বপ্না আকতার ওরফে রুনা, সীমা, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালি গ্রামের আবদুল হামিদ ও রাজু শেখ।
আজ মঙ্গলবার সকালে ও গতকাল সোমবার রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। আজ তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, গত রোববার দুপুরে রমজান আলী নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে স্বপ্না আকতার তার বাসায় ডাকেন। রমজান ওই বাসায় গেলে খাবার কেনার কথা বলে স্বপ্না বাইরে যান। এ সময় তিনি বাইরে থেকে ওই কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর পরই সীমা নামের এক তরুণী পেছনের দিকের দরজা দিয়ে ওই কক্ষে ঢোকেন। এর দু-তিন মিনিটের মধ্যে স্বপ্না ও এসআই সোহেল রানাসহ ছয়জন সামনের দরজা খুলে ওই কক্ষে ঢোকেন।
এ সময় এসআই সোহেল রানা চড়-থাপ্পড় মারেন রমজানকে। পরে রমজানকে সীমার সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় রেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। এরপর এসআই সোহেল রানা রমজানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তা না হলে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে রমজান আসামি আবদুল হামিদের বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করলে ছাড়া পান। ১৫ আগস্ট খুলনা থানায় তিনি নয়জনের নাম উল্লেখ করে ও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
একই ধরনের একটি ঘটনায় নগরের পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল সোমবার আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে একইভাবে ফাঁদে ফেলে ২৯ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এ মামলায় এসআই সোহেল রানা, বিথি, বাদল ওরফে শহিদুল, রাজু শেখ, মাহিন আরা বেগম ও কবির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাপস কুমার পাল বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দু–এক দিনের মধ্যে এই আবেদনের শুনানি হতে পারে।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুজন ব্যক্তিকে আটকে রাখা, প্রতারণা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ইআর





