চট্টগ্রামে ঘরের ভেতর থেকে মা–মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাসিরাবাদ লিচুবাগান এলাকার টিনশেডের এক কক্ষ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধার হওয়া ওই মায়ের নাম লক্ষ্মী রানী সরকার (২২) ও মেয়ে অনন্যা রানী সরকার (২)। নিহত লক্ষ্মীর স্বামী নন্দন সরকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা।
নন্দন সরকার বলেন, রোববার দুপুরে ভাত খেয়ে বাসা থেকে তিনি বের হন। বিকেল চারটার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে লোকজনের উপস্থিতিতে দরজা খুলে দেখা যায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। তারা আত্মহত্যা করেছে নাকি কেউ ঝুলিয়ে দিয়েছে, বুঝতে পারছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
বাসাটির মালিক আরজু বেগম বলেন, বিকেলে ভাড়াটে নন্দন সরকার এসে বলেন ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী দরজা খুলছেন না। পরে মা–মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। কীভাবে কী হয়েছে তিনি তা জানেন না।
ঘটনাস্থল থেকে পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন বলেন, মা–মেয়ের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
কেউ কিছু জানেন না। এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নিহত লক্ষ্মী রানীর বাড়ি সিলেটে। রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁর কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাসেম ভূঁইয়া বলেন, নিহত লক্ষ্মী রানীর সঙ্গে স্বামীর কোনো ঝগড়া হয়নি বলে আশপাশের লোকজন জানান। কিন্তু কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি অন্য কোনো ঘটনা আছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এবিসিদ্দিক





