রংপুর মহানগরীর খামারপাড়া এলাকা থেকে সুফতি(২০) নামের এক প্রেমিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রেমিক বিপ্লবকে(২৩) আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়াবাসার টিনের ছাপড়া ঘরের বেড থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির মালিক আশরাফুল ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখতে পায় সুফতির লাশ ঝুলছে।

কিছুক্ষণ পর বিপ্লব উঠে নিজেই লাশ নামিয়ে বিছানার মধ্যে রাখে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সুফতি মুসলমান হলেও ভাড়া নেয়ার সময় বিপ্লব তাকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। তবে তারা বিবাহ না করেই ঘর সংসার করছিল। এ ঘটনায় বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টিনের চালার দৈর্ঘ্য ৬ ফিটেরও কম। সেখানে ঝুলে কারো আত্মহত্যা করার কথা নয়। আমরা এসে বিছানার ওপর থেকে লাশ পেয়েছি। কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে জিহ্বা বাইরে ছিল।

বাড়ির মালিক আশরাফুল ইসলাম জানান, তারা দুইজনেই হিন্দু দম্পত্বি পরিচয় দিয়ে মার্চ মাসের ১৪ তারিখে আমার বাসার একটি টিনের চালাঘর ৭০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। এর মধ্যে একমাসের ভাড়া দিয়েছে।

তিনি জানান, বেলা ১১ টার দিকে দরজা বন্ধ দেখে আমি ডাকাডাকি শুরু করি। পরে বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখি লাশ ঝুলছে।

তখন এলাকার লোকজন আসে। তাদের সামনে বিপ্লব লাশ নামিয়ে চৌকির ওপর রেখে নিজে পাশে শুয়ে থাকে। তিনি বলেন বিপ্লব স্বামী স্ত্রী ও হিন্দু পরিচয় দিয়েছিল।

কিন্তু এখন দেখা গেলো মেয়েটি মুসলমান। সে নাকি গার্মেন্টেসেও কাজ করতো। বিপ্লব একটি গ্যারেজে কাজ করে।

এ ব্যপারে রংপুর মহানগরীর নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রাজেন্দ্র মোহন চাকী বলেন, তিনমাস আগে নগরীর এরশাদ নগর এলাকার অশোক চন্দ্র রায়ের পুত্র বিপ্লব চন্দ্র(২৩) টাঙ্গাইলের সোহরাব মিয়ার কন্যা সানজিদা ওরফে সুফতিকে(২০) স্ত্রী পরিচয় দিয়ে খামারপাড়ার চন্দ্রার মোড় এলাকায় আশরাফুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে।

আটক বিপ্লব জানান, আমি ঘুম থেকে জেগে দেখি সুফতি ধরনার সাথে ঝুলছে। আমি তাকে মারিনি। সে আত্মহ্ত্যা করেছে। আমরা বিয়ে করিনি। রমজান মাসে বিয়ে করার কথা ছিল।
এসএম