বাঙালির চির ঐতিহ্য, পহেলা বৈশাখ আর কদিন পরই। পান্তা-ইলিশ ছাড়া যেন বৈশাখকে বরণ করা অসম্ভব। তাই মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন অনেক আগেই।

বৈশাখের হিসেব-নিকেশ মেলাতে তারা ভরা মৌসুমে মজুদ করেছেন বিপুল সংখ্যক ইলিশ। শহরের বিভিন্ন মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানার কোল্ড স্টোর এবং নিজস্ব ডিপ ফ্রিজেই রাখা হয়েছে সাধের এ ইলিশ।

এ কারণে বর্তমানে খুলনার বাজারে ইলিশ প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। মোকামে কিছুটা পাওয়া গেলেও নগরের খুচরা বাজারে ইলিশের দেখা খুব একটা মিলছে না। তবে পয়লা বৈশাখের দুদিন আগে থেকেই বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি হবে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

নগরীর সন্ধ্যা বাজার, নিউ মার্কেট, নতুন বাজার, রূপসা মাছ বাজার, টুটপাড়া জোড়াকল বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার, শেখপাড়া বাজার, বড় বাজার ও বয়রাসহ নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বাজারে অন্যান্য মাছ মিললেও ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। আর মাঝে-মধ্যে পাওয়া গেলেও তা আকারে বেশ ছোট। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ইলিশের মত দেখতে `খয়রা ইলিশ` ও `চন্দনা ইলিশ` নামে অন্য মাছ এবং জাটকাও বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া তুলনামূলক এসব মাছের দামও বেশ চড়া।

খুলনার ৪নং ঘাটের মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার মো. আমির হোসেন জানান, ইলিশের মৌসুম শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগে। যে কারণে সাগরে তেমন একটা ইলিশ ধরা পড়ছে না। তারপরও জেলেরা ইলিশ ধরায় নিয়োজিত রয়েছে। তারা যে পরিমানে ইলিশ পাচ্ছেন, তা অবতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি মাসের গত ৪ দিনে মাত্র ১ হাজার ৪৮৩ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে। যে কোনো সময়ের তুলনায় যা খুবই কম। ৪৫০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি সাড়ে ৩০০ টাকা এবং ১ কেজি বা তার বেশি পরিমান ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৯০০` টাকা পাইকারী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

খুলনা মহানগর পাইকারী ও খুচরা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রমজান আলী হাওলাদার ও ব্যবসায়ী মুন্না জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম চলাকালে ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলের বিভিন্ন মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানার কোল্ড স্টোর এবং নিজস্ব ডিপ ফ্রিজে ইলিশ মজুদ করে রেখেছেন। যা পয়লা বৈশাখে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া অনেকেই ঢাকা ও চট্রগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলেও ইলিশ বিক্রি করেছেন। যে কারণে স্থানীয় বাজারে ইলিশ তেমন মিলছে না।

এবারের বৈশাখে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা দেন তিনি।

নগরীর সন্ধ্যা বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী মো. আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে সাগর থেকে ধরা ইলিশের দাম বেশি। কারণ এর স্বাদও বেশি। কিন্তু কোল্ড স্টোরের ইলিশের স্বাদ কম হয়, দামও কম হবে। পহেলা বৈশাখের দুদিন আগে মজুদকৃত ইলিশ বাজারে ছাড়া হবে। এতে বৈশাখের চাহিদাও মিটবে, আবার দামও কম হবে বলে জানান তিনি। 

জেআই