স্থানীয় ও কয়েকটি অনলাইন মিডিয়া সংবাদ প্রকাশের পর গত বুধবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন (ইউপি) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাদক ব্যবসায়ী মাসুম ছৈয়ালকে (৩০) আটক করে পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে পাড়াগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাসুম ছৈয়াল ওই গ্রামের মৃত ছিটু ছৈয়ালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নড়িয়া ও পালং মডেল থানায় মাদক, বিস্ফোরকসহ ১২টি মামলা রয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘অভিযোগ দেয়ায় ১১ পরিবারকে গ্রামছাড়া করলেন যুবলীগ নেতা’ শিরোনামে মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ সংবাদ প্রকাশ হয়।

গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে গ্রামের কয়েক ব্যক্তির ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজ বাড়িতে বালু উত্তোলন করছিলেন মাসুম ছৈয়াল। স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে ড্রেজার মেশিনটি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

ওই গ্রামের বাসিন্দা জলিল আকন প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছে এমন অপবাদ দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মাসুম ও তার বাহিনী। বর্তমানে জলিল আকন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সেই ঘটনায় জলিল আকন ভাই এমদাদ আকন বাদি হয়ে মাসুমকে প্রধান আসামী করে দশ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া একটি মামলা করেন। সেই মামলায় জামিনে এসে এলাকায় তান্ডব শুরু করে মাসুম ও তার বাহিনী। মামলা তুলতে বাদি পক্ষের লোকজনদের হামলা, লুটপাট ও মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।

ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন সরদার বলেন, মাসুম ও তার বাহিনীর ভয়ে পাড়াগাঁও গ্রামের অনেক পরিবার ছয় মাস ধরে বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আজ শুনলাম মাসুম ছৈয়ালকে পুলিশ আটক করেছে, শুনে ভালো লাগলো। এতে করে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, একটি মামলায় মাসুম ছৈয়ালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।

এএস