ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, টেলিযোগাযোগ খাতের বিদম্যান কর কাঠামোর কারণে দেশের মানুষের হাতে সুলভে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রেও অন্তরায়।

শনিবার টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ টিআরএনবি আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে অন্যান্য বক্তরাও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমাদানি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের আহবান জানান।

সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকে ২৩ শতাংশ কর, একসেসরিজ আমদানিতে ৩৭ শতাংশ কর এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ কর সার্বিকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে উচ্চ করের জন্য প্রতি বছর দেশের বাজারে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বেশী অবৈধভাবে আসা হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে যেখান থেকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

 

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট অ্যান্ড ইটস রোল ইন বিল্ডিং ডিজিটাল বাংলাদেশ’শিরোনামে আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, কাস্টমস হাউজ ঢাকার কমিশনার লুৎফর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান, বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক কর্ণেল নাসিম পারভেজ, মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েসন, বিএমপিআই এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক, মোবাইল ফোন অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অ্যামটবের প্রতিনিধি ও গ্রামীণ ফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসাইন এবং লার্ন এশিয়ার সিনিয়র ফেলো আবু সাঈদ খান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোর জন্য এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। কর হার আরও কম হলে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার, স্মার্টফোনের ব্যবহার আরও বাড়বে যেখান থেকে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে আইইএমআই ডাটাবেজ এখনই করা হচ্ছে না, সিমকার্ড পুনঃনিবন্ধন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ আর যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য কর দিতে হয় ৩৭ শতাংশের বেশি।

এ অবস্থা দেশে হ্যান্ডসেট উৎপাদনের জন্য অনুকূল নয়। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের একটি আবেদন করতে বলেন। দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিটিআরসি সম্ভব সব ধরনের সহায়তা করবে বলেও তিনি জানান।

বিএমপিআই এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন সম্ভব। তবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, শাওমিসহ কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের হ্যাসেট বিটিআরসির অনুমোন ছাড়াই অবৈধভাবে দেশের ভেতরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বৈধ আমাদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

বিএমপিআই এর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, দেশে বর্তমানে কম্পিউটারের চেয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে বেশি। বিশেষ করে স্মার্ট ফোনের চাহিদা বাড়ছে। কম্পিউটার আমদানির মতো হ্যান্ডসেটের আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে দেশের মানুষ আরও সুলভে স্মার্টফোন কিনতে পারবে, অবৈধভাবে আমাদানিও বন্ধ হবে।

ওএফ