রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় তিস্তার ভাঙ্গন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে রংপুরের গংগাচড়ায় উপজেলার তিস্তা নদীর মূল বাঁধ রক্ষার জন্য প্রোটেকশন ডাইক বাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত ১৬ আগস্ট পানির তোড়ে তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যায় উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান ব্যাঙপাড়া এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের মার্জিনাল ডাইক বাঁধের আধা কিলোমিটার এলাকা।

এ সময় ধসে যায় ব্যাংকপাড়ার ৫০ ফিট এবং বৈরাতি এলাকার ২৫০ ফিট এলাকার ব্ল্যাক পিচিং।

এক সপ্তাহের ব্যবধানেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই ডাইক বাঁধটির ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আস্তে আস্তে বাঁধটির দুই কিলোমিটার এলাকা তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান জানান, চিলাখাল সাউদ পাড়া বাঁধটিও এখন হুমকির মুখে। যেকোনো সময়ে এই বাঁধটি ভেঙ্গে যেতে পারে। বাঁধটি ভাঙ্গলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।

চেয়ারম্যান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ হাজার। এ পর্যন্ত ২০ কেজি করে চাল ত্রাণ হিসেবে পেয়েছে ২৭৫ পরিবার। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে নগণ্য।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই মার্জিনাল ডাইক বাঁধটি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও ভাঙ্গন হুমকির মুখে পড়েছে পাইকান ইউসুফিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদ ও প্রাইমারি স্কুল। এসব স্থাপনা এখন নদী থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে অবস্থান করছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোডের্র উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিস্তায় তীব্র স্রোতেই এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবার রহমান জানান, আমরা ভাঙ্গন রোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই