পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ‘রূপকল্প-২০২১’-এর মাধ্যমে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’-এর মাধ্যমে একটি উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় গৃহীত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, বিশ্বশান্তি রক্ষায় অংশগ্রহণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান এবং কোভিড মহামারির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা ও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।
বুধবার (৩১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, “কোভিড মহামারির মধ্যেও গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।”
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন এবং আগামী দুই বছর ডি-৮-এর চেয়ার-এর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের এসব অভাবনীয় সাফল্যগাঁথা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেইসঙ্গে ডি-৮-এর চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ, অন্যান্য ডি-৮-ভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতায় ডি-৮-এর অব্যবহৃত সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতাকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করতেও সক্ষম হবে। এছাড়াও, ডি-৮ সিসিআই-এর সভাপতি হিসেবে অন্যান্য ডি-৮-ভুক্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ডি-৮ যুব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এ যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ডি-৮ সদস্যভুক্ত অন্যান্য দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি, এ সম্মেলনে অর্জিত অভিজ্ঞতা তরুণ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা এবং উদ্যোগ গ্রহণে ভবিষ্যতে সহায়তা করবে।”
এমবি





