টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

যমুনা নদীর পানি মঙ্গলবার বিকালে ১৯ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় টাঙ্গাইল সদর, ভুঞাপুর, গোপালপুর, নাগরপুর, কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ৮০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী এসব এলাকার ঘড়বাড়ি ছাড়াও বিস্তীর্ণ ফসলের জমি, সবজি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন এসব এলাকার নতুন নতুন পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে।

বন্যা কবলিত এসব এলাকার চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ আমন ধান তলিয়ে গেছে। এদিকে গবাদি পশু রাখা ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

নাগরপুরে গোবিন্দপুর বাঁধ ভেঙ্গে বিভিন্ন স্কুল ও ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নতুন করে দুই গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।

এছাড়া নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ীতে পানি ওঠায় মানুষ এখন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঠিক মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছে না বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সরকারি সাহায্যে অপ্রতুল। বন্যা কবলিত মানুষ সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এ পর্যন্ত একশ’ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন সৈয়দ ইবনে সাঈদ জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই