ভাঙার জন্য সিলগালা করা হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘বিজিএমইএ’ ভবন। এরই মধ্যে ভবনের বেশিরভাগ মালামাল সরানো হয়েছে বলে জানান রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী রায়হানুল ফেরদৌস।

ডিনামাইটসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ’র বহুতল ভবনটি ভাঙা হবে বলেও জানান এই প্রকৌশলী। 

প্রত্যেক ফ্লোরে এবং ভবনের মূল ফটকে তালা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান। তালা দেওয়ার পর চাবি হস্তান্তর করা হয় পুলিশের কাছে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান বলেন, আইনের ভিত্তিতে বিজিএমইএ ভবন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা যে ভবন অপসারণ শুরু করেছি এটাও ভবন ভাঙার অংশ। তাছাড়া এখানে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্টের বিষয় আছে, এগুলো শেষ হলেই আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করবো। এই বড় ভবনের নানা বিষয় দেখতে হচ্ছে, এখানে অনেকগুলো ব্যাংক আছে সেটাও দেখতে হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে পারবো। এই কাজে মূল সহযোগী হবে চায়না এক্সপার্টরা। এখন ভবনে অফিস অপসারণের কাজ চলছে।

হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক রায়হান ফেরদৌস বলেন, মালামাল সরানোর পর আমরা ইউলিটি সেবা গ্যাস, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেবো। এরপর ভবন ভাঙার কাজে হাত দেবো। সেনাবাহিনীর সহায়তায় এই ভবনটি অপসারণের কাজ করা হবে। এর আগে র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটে। তবে এই ভবন ভাঙতে ডিনামাইট বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

এরআগে ভবন ভেঙে ফেলতে কয়েকবার সময় বেধে দেন আদালত। তবে, পোশাক শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিবারই বাড়ানো হয়েছে সময়সীমা। সবশেষ মুচলেকা দিয়ে ১ বছরের সময় নেয় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ; যা শেষ হয় গেলো ১২ এপ্রিল।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএ’র বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়।

রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ৬ মাস এবং পরে ৭ মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে ১ বছর সময় পায় সংগঠনটি, যার তারিখ ছিল চলতি বছরের ১২ এপ্রিল। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।

কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা। বিজিএমইএ ব্যবহার করে ৪টি তলা। বাকি জায়গা ২টি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ভবনের ওপরের ২তলা নিয়ে বিলাসবহুল ‘অ্যাপারেল ক্লাব’করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্টুরেন্ট ও সভাকক্ষ আছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।

রাজধানীর উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা (পার্কিংয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ দুই তলা ছাড়া) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের ৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ’র নিজস্ব ভবনের উদ্বোধন করেন। ভবনের ২টি ফ্লোরে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   

এমবি